মুনসুর আলী-ভ্রাম্যামান প্রতিনিধি, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): রাজধানীর অদূরে ব্যস্ততম এলাকা সাভার বাসস্ট্যান্ড—দিনের কোলাহল থেমে গেলে যেখানে নেমে আসে নীরবতা, সেই স্থানই গভীর রাতে পরিণত হতো আতঙ্কের জনপদে।
অভিযোগ ছিল, অন্ধকারের সুযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পথচারী, শ্রমজীবী মানুষ ও দূরপাল্লার যাত্রীদের লক্ষ্য করে ছিনতাই ও মাদক বাণিজ্য চালিয়ে আসছিল। ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নীরব সন্ত্রাস কায়েম করে।
এমন প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাত আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী-এর সাভার আর্মি ক্যাম্প-এর একটি নিয়মিত টহল দল সাভার বাসস্ট্যান্ড সড়ক এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন ব্যক্তির সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে। এ সময় দেখা যায়, একদল দুর্বৃত্ত কয়েকজন পথচারীকে ঘিরে ধরার চেষ্টা করছে।
পরিস্থিতি অনুধাবন করে সেনাসদস্যরা দ্রুত কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করেন এবং তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করেন। মুহূর্তেই শুরু হয় ধাওয়া। উত্তেজনাপূর্ণ অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে প্রথমে দুইজনকে আটক করা হয়। তাদের দেহ তল্লাশিতে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। অভিযান সেখানেই শেষ হয়নি।
সেনাবাহিনীর সদস্যরা আশপাশের এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাপক তল্লাশি চালান এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে আরও দুইজনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ছিনতাই ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং গভীর রাতে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করত।
আটককৃতরা হলেন:
১. জাহাঙ্গীর আলম (৩৫), ২. রিপন মিয়া (৪০), ৩. মোঃ শাহিন ইসলাম (১৮), পিতা: মোঃ বাচ্চু, বনপুকুর, সাভার, ৪. মোঃ রাসেল (১৮), পিতা: লতিফ মিয়া, সাভার স্ট্যান্ড।
আটককৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা, মদ, দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং মাদক সেবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত পর্যালোচনায় ধারণা করা হচ্ছে, চক্রটি বড় ধরনের সহিংস ঘটনার প্রস্তুতিতে ছিল। সময়োচিত এই অভিযানের ফলে সম্ভাব্য গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযান শেষে আটককৃত ব্যক্তিবর্গ ও উদ্ধারকৃত আলামতসমূহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাভার থানা-য় হস্তান্তর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় ছিনতাই ও মাদক তৎপরতা বেড়ে গিয়েছিল। গভীর রাতে চলাচল করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে থাকতেন। সেনাবাহিনীর দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে তারা মত প্রকাশ করেন।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
Leave a Reply