ঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপির প্রায় ৬২ শতাংশ নির্বাচিত সংসদ সদস্য কোনো না কোনোভাবে ঋণের সঙ্গে জড়িত। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও নিজেদের মন্ত্রিসভা ও সংসদ সদস্যদের ঋণ পরিশোধের বিষয়টি কবে নিশ্চিত করা হবে—এ প্রশ্নের জবাব জনগণ জানতে চায়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার আগে নিজের ঘর ঠিক করতে হবে। ঋণ পরিশোধ করেই দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচন ছিল হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের পর অর্জিত একটি প্রক্রিয়া। সবার প্রত্যাশা ছিল—এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ গণতন্ত্রের পথে এগোবে, রাষ্ট্র সংস্কার সম্পন্ন হবে, ফ্যাসিবাদের বিচার নিশ্চিত হবে এবং আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত হয়ে দুর্নীতিমুক্ত সুশাসনের ভিত্তি গড়ে উঠবে।
তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হলেও ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে তারা ফলাফল মেনে নিয়েছেন এবং জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদকে কার্যকর করতে শপথ নিয়েছেন। কিন্তু সরকারি দল সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের তারুণ্য শক্তির প্রতিফলন নতুন মন্ত্রিসভায় দেখা যায়নি। প্রায় ৬২ শতাংশ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী ব্যবসায়ী, যেখানে রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন ছিল। তার দাবি, এসব ব্যবসায়ীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঋণখেলাপি রয়েছেন।
মন্ত্রিসভা গঠনে নতুনত্বের অভাবের কথাও তুলে ধরেন তিনি। অভিযোগ করে বলেন, বড় বাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এমন একজনকে দেওয়া হয়েছে, যিনি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী এবং হত্যা মামলার আসামি। ব্যবসায়িক স্বার্থে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দলীয়ভাবে তিনি খুব গুরুত্বপূর্ণ কেউ না হলেও আর্থিক ও ব্যবসায়িক প্রভাবের কারণেই তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন নাহিদ ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে—নইলে জনগণের প্রত্যাশা আরও ভেঙে পড়বে।
google news
Leave a Reply