শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন

ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫০টি অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১০০ সময় দেখুন

মোহাম্মাদ নাদের-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি (ইউএসএ), ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের রণতরীগুলো ‘সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে’ দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। গত মঙ্গলবার তেহরানে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী এমন এক চপেটাঘাত খেতে পারে, যা থেকে তারা আর সেরে উঠতে পারবে না।’ যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী’ দাবি করার পরিপ্রেক্ষিতে খামেনি এ মন্তব্য করলেন। দেশটির সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫০টি অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। এফ-৩৫, এফ-২২ এবং এফ-১৬ এর মতো শক্তিশালী স্টিলথ ফাইটার জেট রয়েছে এই বহরে। কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে উভয়পক্ষের এমন তৎপরতা যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ‘তারা বারবার বলছে যে ইরানের দিকে রণতরী পাঠানো হয়েছে। বেশ তো, রণতরী অবশ্যই একটি বিপজ্জনক যন্ত্র, কিন্তু রণতরীর চেয়েও বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র, যা একে সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দিতে পারে।’

অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও তেহরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির মুখে খামেনির এ কড়া মন্তব্য এলো। গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনা ব্যর্থ হলে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ শিগগির এ অঞ্চলে পাঠানো হবে। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘যদি কোনো রফায় আসতে না পারি, তবে আমাদের এটির প্রয়োজন হবে। এটি খুব দ্রুতই রওনা দেবে।’

গত মাসে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ এবং কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

চলমান পরমাণু আলোচনা প্রসঙ্গে খামেনি বলেন, আলোচনা চলাকালে আগেই এর ফল নির্ধারণ করে ফেলা ‘ভুল ও বোকামি’।

এমন পরিস্থিতিতে পেন্টাগনের বিশাল সমর প্রস্তুতিকে অনেকেই তেহরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ইরান যদি পরমাণু ইস্যুতে সমঝোতায় না আসে, তবে ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘমেয়াদি সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করে রেখেছে।

এদিকে মার্কিন সামরিক তৎপরতার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের নৌ-মহড়া শুরু করেছে। সামরিক মহড়ার নামে তেহরান এরই মধ্যে এই সমুদ্রপথের একটি অংশ কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর