ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ঐতিহ্যবাহী ১৮১ তম পাগলা মেলা শেষ হয়েছে।
উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের শাহবাজপুর দরগাপাড়ায় সৈয়দ আবুল মোকাররম বোগদাদী (রহ.)-এর বার্ষিক উরস ঘিরে ১৮১তম পাগলামেলার জমকালো আসর জমে। প্রতিবছর ১৭ পৌষ থেকে ২০ পৌষ পর্যন্ত মেলাটি জমে।
মাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য সৈয়দ আবুল হাসনাত বাবুল মিয়া জানান, তার পূর্বপুরুষ সুফি সৈয়দ আবুল মোকাররম বোগদাদী ৭০০ বছর আগে প্রয়াত হন। প্রয়াত ওই সুফির স্মরণে মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে ৪৭৯ বছর আগে প্রথম উরস পালন করেন সৈয়দ আবুল মোকারম বোগদাদীর উত্তররসূরী সৈয়দ মাহুদ হোসেন মিয়া আর উরসকে কেন্দ্র করে ১৮০ বছর আগে প্রথম মেলার প্রচলন করেন আরেক উত্তরসূরী সৈয়দ হাসান মিয়া।
তিনি আরও জানান, এবারের মেলায় প্রতিদিন লাখো নারী-পুরুষের সমাগম ঘটেছে। প্রতিবছর ১৭ পৌষ থেকে ২০ পৌষ পর্যন্ত নির্ধারিত তারিখ হলেও বাস্তবে মেলার রেশ থেকে যায় সপ্তাহব্যাপী। নির্ধারিত তারিখের ১ দিন আগেই মেলা জমতে শুরু করে আর নির্ধারিত সময় ২০ পৌষে শেষদিন হলেও মেলার কিছু আনুষ্ঠানিকতা চলে আরো কয়েকদিন।
মেলায় আগত দর্শনার্থী পল্লী বিকাশ সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাজিদ খান, শিক্ষক আবদুল মোহিত, লিমন মিয়া, ব্যবসায়ী লায়েছ আহমেদ, স্বাস্থ্য সহকারী প্রাণেশ দাস, নুর ইসলাম, ফিরোজ মিয়া, পল্লী চিকিৎসক অপু সরকার, বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ছোটবেলায় আমরা অপেক্ষায় থাকতাম কবে মেলা হবে, এটি নিঃসন্দেহে আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। মেলাটি একজন আধ্যাত্মিক সাধকের স্মৃতি ঘিরে আয়োজিত হয়ে আসছে। যুগ যুগ ধরে এই মেলা এই অঞ্চলের লোকজনের কাছে লোকজ সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে।
মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল রাতভর প্রায় ২০টি পৃথক বাউল আসরে আধ্যাত্মিক সংগীতের সুরের মূর্ছনায় ভক্তদের মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে আসরে কনকনে শীত উপেক্ষা করে বসে গান উপভোগ। মুগ্ধ হয়ে দর্শক শ্রোতারা নেচে উঠে গানের তালে। আর শীতের রাতের নিরবতা ভেঙ্গে গানের সুর ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী নিভৃত গ্রামগুলো। এ যেন এক অন্যরকম দৃশ্যপট।
এছাড়া নাগরদোলা, শিশুদের খেলনা, নারীদের প্রসাধনী সামগ্রী, গুড়ের জিলাপি সহ নানা ধরনের মিষ্টান্ন, চটপটি, মাটির তৈজসপত্র,কাঠের তৈরী আসবাবপত্র,ঘর-গৃহস্তলির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সহ হরেক রকমের পণ্যের পসরা সাজানো হয়েছিল পুরো মেলা জুড়ে।
প্রতিদিন বিকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত জনসমাগম জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
Leave a Reply