মোঃ মিজানুর রহমান, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-পটুয়াখালী, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় আমন ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গে রবি ফসলের আবাদে আগাম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন কৃষকরা। উপজেলার চরাঞ্চল ও অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে ধান কাটা শেষ হতেই জমি চাষ, মই দেওয়া ও নিড়ানি পরিষ্কারের কাজ চলছে।
শীত মৌসুমকে সামনে রেখে সরিষা, গম, ভুট্টা, মুগ, মসুর, খেসারি ও শাকসবজির আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন তারা।
উপজেলার মুরাদিয়া, আঙ্গারিয়া, শ্রীরামপুর ও লেবুখালী ও পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে দেখা গেছে, ধান কাটার পরপরই ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি প্রস্তত করা হচ্ছে। অনেক কৃষক ইতোমধ্যে বীজ সংগ্রহ ও সার ব্যবস্থাপনার কাজও শুরু করেছেন। কৃষকদের মতে, আমন কাটার সময় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রবি মৌসুমের জন্য জমি প্রস্তুতে সুবিধা হচ্ছে।
মুরাদিয়ার চরগরবদি গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, আমন ভালো হয়েছে। কাটার সঙ্গে সঙ্গে জমি ফাঁকা না রেখে রবি ফসল তুলতে পারলে বাড়তি লাভ হয়। এবার সরিষা, মুগ ও মসুর বাড়াব। শ্রীরামপুরের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, শীতের শুরুতেই বীজ বপন করা গেলে ফলন ভালো হয়। তাই সময় নষ্ট না করে জমি প্রস্তত করছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রবি মৌসুমে উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে ডাল ও তেলবীজ আবাদ লাভজনক। পানি জমার ঝুঁকি কম থাকায় চরাঞ্চলে ভুট্টা ও সবজির উৎপাদন ভালো হয়। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে রবি ফসলের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: ইমরান হোসেন বলেন, কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। আমরা বীজ, সার ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক চাষপদ্ধতি বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছি। সময়মতো বপন ও সুষম সার প্রয়োগ করলে ফলন বাড়বে। তিনি আরও জানান, রোগবালাই দমনে মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাজারে রবি ফসলের ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশায় কৃষকরা আশাবাদী। সময়মতো সেচ ও আবহাওয়ার সহায়তা মিললে দুমকিতে এ মৌসুমে রবি ফসল উৎপাদনে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা
Leave a Reply