শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন

ইসরায়েলে সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৩২ সময় দেখুন

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে বড় ধরনের রাজনৈতিক সাফল্য পেয়েছেন বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট। দেশটির ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে গাদি আইজেনকটের পক্ষে ৬৭ জন আইনপ্রণেতা সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন রয়েছে ৪৬ জন আইনপ্রণেতার।

ইসরায়েলের সংবাদপত্র হারেৎজের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ২৬তম নেসেটে নির্বাচিত দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুই দিনের আলোচনার পর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ এই সমর্থনের হিসাব সামনে এনেছেন। ইসরাইলের সংবাদপত্র হারেৎজের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিরোধী দল ইয়াশারের নেতা আইজেনকটের পক্ষে ডানপন্থী, মধ্যপন্থী, বামপন্থী এবং আরব নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন গোষ্ঠীর সমর্থন রয়েছে। বিশেষ করে জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম দলের সমর্থন তাকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমার ওপরে নিয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে নাফতালি বেনেট ও আভিগদর লিবারম্যানের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী দল, মধ্যপন্থি ও বামপন্থি দল এবং আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো।

ইসরায়েলের পার্লামেন্টে সাধারণত সরকার গঠনের জন্য কমপক্ষে ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন। গাদি আইজেনকট এই সীমা অতিক্রম করলেও তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ সুপারিশ পেলেও সরকার গঠন এখনো নিশ্চিত নয়। বিরোধী শিবিরের দলগুলোর মধ্যে গভীর রাজনৈতিক ও আদর্শিক মতপার্থক্য বিদ্যমান থাকায় তাদের নিয়ে কার্যকর কোনো জোট গঠন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সরকার গঠন করে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে টিকে থাকতে সাধারণত অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন। জয়েন্ট লিস্টের ১১ জন সদস্যের সমর্থন তাঁকে ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা পার হতে সাহায্য করেছে।

জোট গঠনের জটিলতা আরও স্পষ্ট হয়েছে দলগুলোর অবস্থানের কারণে। জয়েন্ট লিস্ট জানিয়েছে, তারা আইজেনকটের সরকারকে কেবল বাইরে থেকে সমর্থন দিতে পারে, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যোগ দেওয়া নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে। একই ধরনের অবস্থান দেখা গেছে আট আসনের দল রা’আমের ক্ষেত্রেও। ফলে এই ৬৭ জন আইনপ্রণেতা শেষ পর্যন্ত একটি স্থিতিশীল সরকারে একমত হতে পারবেন কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কিন্তু এই ৬৭ জন আইনপ্রণেতা একই সরকারের অংশ হতে রাজি হবেন কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর দল লিকুদ নেসেটের একক বৃহত্তম দল হিসেবে ২৭টি আসন ধরে রেখেছে। যদিও গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন বৃহত্তর ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী জোট ৫৩টি আসন পেলেও সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ৬১ জনের সমর্থন পায়নি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা ছাড়েননি নেতানিয়াহু; নতুন সরকার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের শাসনের অবসান ঘটাতে বিরোধীদের প্রচেষ্টায় এই সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আইজেনকটের দল ইয়াশা প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন দ্রুত গাদি আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাদের দাবি, ৬৭ জন আইনপ্রণেতার এই সুপারিশ রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়ে জনমতের প্রতিফলন। এছাড়া দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষেও মত দিয়েছে দলটি। আইজেনকটের প্রধান কাজ হবে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় পাওয়া সমর্থনকে একটি স্থায়ী সরকার গঠনের চুক্তিতে রূপ দেওয়া।

তবে প্রেসিডেন্ট হারজগ এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নারাজ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কেবল সমর্থনের সংখ্যা দিয়েই সরকার গঠনের উপযুক্ততা নির্ধারণ করা যায় না। রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক আপত্তি ও অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কারণে পরিস্থিতি বেশ জটিল। আগামী ৮ নভেম্বর, রোববার নাগাদ তিনি দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে আরও আলোচনার পর পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করবেন।

সরকার গঠনের আইন অনুযায়ী, দায়িত্ব পাওয়ার পর সাধারণত ২৮ দিন সময় পাওয়া যায়, যা প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন বাড়ানো সম্ভব। প্রথম প্রচেষ্টায় কেউ ব্যর্থ হলে অন্য আইনপ্রণেতাকে সুযোগ দেওয়া হবে, অন্যথায় দেশটিতে পুনরায় নির্বাচন হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সরকার গঠনের প্রক্রিয়াটি দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আঞ্চলিক সংঘাত আরো বাড়লে রাজনৈতিক নেতাদের ওপর জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে বৃহত্তর সরকার গঠনের চাপ তৈরি হতে পারে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর