শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ন

আরব দলগুলোর সমর্থনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে গাদি আইজেনকট

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২৪ সময় দেখুন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে গাদি আইজেনকটকে সমর্থন দিয়েছে দেশটির আরব রাজনৈতিক দলগুলো। গত বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে আরব দলগুলোর প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর প্রতি সমর্থন জানান। এই নাটকীয় রাজনৈতিক পালাবদলের ফলে দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সমর্থন এখন বিরোধী জোটের এই নেতার হাতে।

প্রেসিডেন্ট হারজগ জানিয়েছেন, আইজেনকটকে সমর্থন দিয়েছেন মোট ৬৭ জন আইনপ্রণেতার প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো। অন্যদিকে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন রয়েছে মাত্র ৪৬ জন আইনপ্রণেতার। তবে এই পরিসংখ্যান পরিষ্কার হলেও, চূড়ান্তভাবে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার আগে প্রেসিডেন্ট হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সাথে আরও বিস্তারিত আলোচনার ঘোষণা দিয়েছেন। আশা করা হচ্ছে, আগামী রোববার তিনি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন।

আইজেনকটের দল ইয়াশা দ্রুত তাঁকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দলটির দাবি, ২০১৫ সালের পর থেকে কোনো প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী এত বিশাল সংখ্যার সমর্থন পাননি। তবুও সরকার গঠনের প্রক্রিয়াটি বেশ চ্যালেঞ্জিং। বিরোধী পক্ষ মূলত দুটি শিবিরে বিভক্ত—ইহুদি নেতৃত্বাধীন চারটি দল যাদের আসন সংখ্যা ৪৮ এবং আরব নেতৃত্বাধীন দুই দল ও জোট যাদের আসন ১৯টি। ইহুদি নেতৃত্বাধীন দলগুলো এখনো আরব দলগুলোর সাথে জোট বাঁধার ব্যাপারে যথেষ্ট দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে।

আরব দলগুলোর সমর্থন প্রসঙ্গে রাআমের নেতা মনসুর আব্বাস প্রেসিডেন্টকে জানান, তিনি আইজেনকটের নেতৃত্বে একটি স্থিতিশীল সরকার দেখতে চান। তাঁর ভাষায়, সরকারে রাআমের উপস্থিতির কারণে ইসরায়েলি নাগরিকদের রক্ষায় মন্ত্রিসভা বা সরকার বাধাগ্রস্ত হবে—এমন দাবি সঠিক নয়।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২১ সালে ইয়ার লাপিদ ও নাফতালি বেনেটের আমলের সরকার বর্তমানের কট্টর ডানপন্থী সরকারের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ছিল। আব্বাস বলেন, ২০২১ সালে ইয়ার লাপিদ ও নাফতালি বেনেট মিলে যে সরকার গঠন করেছিলেন, নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার—দুই বিবেচনাতেই সেই সরকারের সবচেয়ে খারাপ দিনও বর্তমান কট্টর ডানপন্থী সরকারের চেয়ে অনেক ভালো ছিল।

আব্বাস সরাসরি হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও সন্ত্রাসবাদের নিন্দা জানিয়েছেন এবং হামাসকে নিরস্ত্র করে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি সাফ জানান, দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে রাআম কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

অন্যদিকে, জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন জানিয়েছেন, বর্ণবাদ, রাজনৈতিক অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার আরবরা এখন প্রকৃত পরিবর্তন চান। তাই আদর্শগত দূরত্ব থাকলেও তারা এই মুহূর্তে আইজেনকটকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই দলের আইনপ্রণেতা আহমেদ তিবি জানান, সরাসরি সরকারে যোগ না দিয়ে তারা বাইরে থেকে সংখ্যালঘু সরকারকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, নতুন নেসেটে তাদের ১১টি আসন থাকবে এবং তাদের সমর্থন ছাড়া কোনো সংসদীয় বা রাজনৈতিক উদ্যোগ সফল করা অসম্ভব। তবে সরকারকে শুধু এক-দুই মাস টিকিয়ে রেখে পরে পতনের মুখে ঠেলে দিতে চান না তাঁরা।

এদিকে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের জোটের ভেতর থেকেও বড় ধাক্কা খেয়েছেন। গত নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন পেলেও, সাত আসন জয়ী ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) দল তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সমর্থন দিতে অস্বীকার করেছে। ফলে ক্ষমতার সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গেছে। আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের অধিবেশন বসার কথা রয়েছে, যেখানে নতুন স্পিকার নির্বাচন করা হবে। ইতিমধ্যে ইয়াশা দল ঘোষণা করেছে যে, তারা নেতানিয়াহুর সাথে কোনো ঐক্যের সরকার গঠন করবে না। নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন দেবে না জোটসঙ্গী দল ইউটিজে, আরও বেকায়দায় তিনি। সরকার গঠনের আলোচনা চললেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছে ইয়াশার।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর