সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ন

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইসলামবিদ্বেষ ও ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিলেন ট্রাম্প

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২২ সময় দেখুন

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে রিপাবলিকান ভোটারদের চাঙা করতে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য এবং বিভিন্ন ষড়যন্ত্রতত্ত্বের আশ্রয় নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত রবিবার আইওয়া ও কানসাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি সমাবেশে তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতাদের বিরুদ্ধে নানা ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করেন। আগামী ৩ নভেম্বর দেশজুড়ে এই মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছর কংগ্রেসে কারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, তা এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভাবুন, ব্যালটে আমার নাম আছে।’।

মিশিগানের ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদকে ট্রাম্প আবারও ‘জিহাদি’ বলে অভিহিত করেছেন। সমাবেশে তিনি দাবি করেন, সাইয়েদ আন্তর্জাতিক সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত, যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি। মুসলিম ব্রাদারহুডকে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করলেও ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সমাবেশে উপস্থিত জনতাকে ট্রাম্প বলেন, সাইয়েদ নির্বাচিত হলে সিনেটে প্রবেশের আগে তার জন্য বিশেষ ধাতব শনাক্তকরণ যন্ত্র বসাতে হবে। উপস্থিতিদের হাসির মধ্যে তিনি মন্তব্য করেন, ১০০ সিনেটরের মধ্যে সাইয়েদের প্রবেশপথেই কেবল এই বিশেষ নিরাপত্তা পরীক্ষার প্রয়োজন হবে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের এটিই ছিল শেষ সফরভিত্তিক নির্বাচনি সমাবেশ। যদিও জনমত জরিপে রিপাবলিকানদের জন্য কঠিন নির্বাচনের ইঙ্গিত রয়েছে, তবুও তিনি সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করছেন। তাদের বেশির ভাগই সরাসরি সিনেটে প্রবেশ করবেন।

সমাবেশ দুটিতে বিক্ষোভকারীদের দ্বারা কয়েকবার বাধার মুখে পড়েন ট্রাম্প। আইওয়ার সমাবেশে তিনি ডেমোক্রেটিক প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেনসকে দল পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তিনি রিপাবলিকান দলে যোগ দিলে খুশি হবেন। উল্লেখ্য, স্টিভেনস প্রাথমিক নির্বাচনে আল-সাইয়েদের কাছে পরাজিত হওয়ার পর রিপাবলিকান মাইক রজার্সকে সমর্থন দিয়েছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে দলের ভোটারদের সক্রিয় করতেই তিনি এ আহ্বান জানান। পরে হঠাৎ করেই সেগুলোর নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়।

ইলহান ওমরকে আক্রমণ করে ট্রাম্প আবারো দাবি করেন, ওমর অতীতে নিজের ভাইকে বিয়ে করেছিলেন এবং তাদের একটি সন্তান রয়েছে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, কানসাসের সমাবেশে ট্রাম্প ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী ও ধর্মযাজক অ্যাডাম হ্যামিলটনকে ‘নির্বিকার’ আখ্যা দিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ তোলেন, হ্যামিলটন টেলিপ্রম্পটার দেখে নিজের ধর্মীয় বক্তব্য পাঠ করেন এবং ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকারের পক্ষে কাজ করছেন।

উভয় সমাবেশেই ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধনীতি, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন সমস্যা, তার বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের পক্ষপাতিত্ব এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর বিশেষ আলোকপাত করেন। দুটি সমাবেশেই একাধিকবার তার বক্তব্যে বাধা দেন বিক্ষোভকারীরা।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আইওয়া ও কানসাসে অধিকাংশ আইনপ্রণেতা রিপাবলিকান হলেও বর্তমান জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। কানসাসের পাঁচটি ফেডারেল কংগ্রেসীয় আসনের মধ্যে একটি সিনেট আসন রয়েছে। ১৯৩২ সালের পর থেকে এই অঙ্গরাজ্য থেকে আর কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি। তবে আইওয়ার সিনেট আসনে লড়াইটি এখন বেশ হাড্ডাহাড্ডি পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রতিনিধি পরিষদের দুটি আসনে ডেমোক্র্যাটরা সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর