রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০০ অপরাহ্ন

রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের মামলায় মেজর (অব.) ড. খন্দকার আব্দুল হাফিজ ৪ দিনের রিমান্ডে

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২৫ সময় দেখুন

ঢাকা, ০১ নভেম্বর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে তহবিল সংগ্রহ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা চালানোর অভিযোগে করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর ড. খন্দকার আব্দুল হাফিজের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। পল্লবী থানায় করা এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আজ রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসানের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে হাফিজকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ আদালতে রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হারুন অর রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, খন্দকার আব্দুল হাফিজ তার সহযোগীদের নিয়ে সরকারবিরোধী বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ এবং সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা’ ও ‘বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি’ নামে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থেকে আসামিরা এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন। এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করার অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, এসব যোগাযোগের মাধ্যমে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন, অবৈধভাবে তহবিল সংগ্রহ এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছিল। ‘কালআজকাল.কম’ নামে একটি ফেসবুক পেজ, ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সহিংসতা উসকে দেওয়ার মতো কনটেন্ট প্রচারের অভিযোগও রয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক এবং কুৎসামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছিল। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগও উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন।

তদন্তের স্বার্থে হাফিজকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মামলার অন্য সহযোগীদের নাম-ঠিকানা ও অবস্থান শনাক্ত করতে চায় পুলিশ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন দেশি-বিদেশি ব্যক্তিদের শনাক্ত, ডিজিটাল আলামত উদ্ধার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহৃত অন্য কোনো গোপন পেজ বা ওয়েবসাইট রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে রিমান্ড আবেদনে।

এ ছাড়া জব্দ করা আলামত যাচাই, মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং অভিযোগে উল্লেখ করা পরিকল্পনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর পল্লবী থানায় মামলাটি করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. আলী আকবর। মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী গুলশান আরাসহ কয়েকজনের নাম রয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও গুলশান আরা কারাগারে রয়েছেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর