রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০২ অপরাহ্ন

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সাভার-গাজীপুরে ৮০ কারখানায় ছুটি

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২২ সময় দেখুন

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করাসহ বিভিন্ন যৌক্তিক দাবিতে আজ রোববার ঢাকার সাভার ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকরা ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। এই অস্থির পরিস্থিতির মুখে দুই জেলার অন্তত ৮০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। সকালের দিকে কারখানাগুলোতে কাজের পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শিল্প এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও কারখানার সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় সাভারের অর্ধশতাধিক কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করেছে। জানা গেছে, নিশ্চিতপুর এলাকার আল-মুসলিম এ্যপারেলস, নিউএইজ গ্রুপ ও ট্রাউজার লাইন লিমিটেডের শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে কারখানার ভেতরে অবস্থান নেন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় শারমিন গ্রুপের কারখানার সামনে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকরা বেতন বাড়ানোর দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১–এর কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আজ অধিকাংশ কারখানায় সকাল থেকে কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। সেখানে বলা হয়, ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ অত্র শিল্প এলাকায় সর্বদা আপনাদের পাশে থেকে শান্তি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সেবা প্রদান করে আসছে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ আপনাদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ে সবসময় শ্রমিক ভাই ও বোনদের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে…।’।

শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানালেও তারা সড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে শারমিন গ্রুপের অন্যান্য শ্রমিকদের আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। শ্রমিকেরা বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে আছেন। এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে শারমিন গ্রুপের কারখানা এবং এরপর হা-মীম গ্রুপসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়। বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন জানান, শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে মালিকপক্ষের কোনো সাড়া না পাওয়ায় তারা ধোঁয়াশা ও ক্ষোভ থেকে সড়ক অবরোধের পথ বেছে নিয়েছেন। সকালের দিকে শিল্প পুলিশের মাইকিংয়ের মাধ্যমে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হলেও শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ কমেনি।

এদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শ্রমিক আন্দোলনের তীব্রতা আরও বেশি ছিল। আজ বেলা সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে উপজেলার চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা একটি পিকআপ ভ্যান পুড়িয়ে দেয় এবং ট্রপিক্যাল পোশাক কারখানার ঝুটের গোডাউনে অগ্নিসংযোগ করে। ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, শ্রমিক আন্দোলনের মুখে বাধা পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি, ফলে পিকআপ ভ্যানটি পুরোপুরি পুড়ে যায়।

কালিয়াকৈরের রতনপুর এলাকায় করনী নিট কম্পোজিট ও নিট এশিয়াসহ বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে সফিপুর বাজার এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন। এই উত্তাল পরিস্থিতির কারণে কালিয়াকৈর উপজেলার অন্তত ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। শ্রমিকদের টানা আন্দোলনের ফলে পুরো শিল্পাঞ্চলজুড়ে এখন উদ্বেগজনক অবস্থা বিরাজ করছে। গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশ বক্সে আগুন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর