ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাক কারখানার শ্রমিকদের টানা অবরোধে অচল হয়ে পড়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক।
রোববার সকাল থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর ও মৌচাকসহ বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন শ্রমিকেরা। তারা মহাসড়কের ওপর বিদ্যুতের খুঁটি ও বিভিন্ন ভারী বস্তু ফেলে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। এর ফলে চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই অবরোধে গাজীপুরের ভোগড়া থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের গোড়াই পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার টানা অবরোধে গাজীপুরের ভোগড়া থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের গোড়াই পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
মহাসড়কের উভয় পাশে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও শত শত ছোট যানবাহন আটকা পড়ে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। নারী ও শিশুসহ হাজার হাজার যাত্রী বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা হন। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে চন্দ্রা ও সফিপুর এলাকার অন্তত ২০টি পোশাক কারখানা আজকের মতো ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ ও ঢাকামুখী হাজার হাজার যাত্রী, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। চরম এই যানজট ও দুর্ভোগের কারণে বাধ্য হয়ে বহুযাত্রীকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হতে দেখা যায়।
সকাল থেকেই শ্রমিকেরা দলে দলে রাস্তায় নেমে বেতনের দাবিতে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়েছে; পাল্টা জবাবে শ্রমিকরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। হাইওয়ে ও জেলা ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়ক সচল ও যান চলাচল স্বাভাবিক করতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
Leave a Reply