হাসিবুর রহমান শিপন-খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের আড়ুয়াশলুয়া গ্রামের কাঁচা রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এই সড়কটি পাকা করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যার ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন অন্তত ১০ থেকে ১২টি গ্রামের হাজারো মানুষ। বছরের পর বছর ধরে রাস্তাটি সংস্কারের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে একটি সড়ক পাকা না হওয়ায় ১০ গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আড়ুয়াশলুয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মধ্য দিয়ে যাওয়া এই কাঁচা রাস্তাটি যাতায়াতের প্রধান পথ। এই মাঠে ধান, গম, মসুর ও কলাইসহ নানা ধরনের ফসলের আবাদ হয়। প্রতিদিন কৃষক ও সাধারণ মানুষ এই পথে চলাচল করলেও বর্ষা মৌসুমে সেখানে কাদা ও পানি জমে থাকে, যা পায়ে হেঁটে পার হওয়াও কঠিন। আবার শুষ্ক মৌসুমে খানাখন্দে ভরা রাস্তায় বাইসাইকেল বা মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে অনেকেই বিপাকে পড়ছেন। কালীগঞ্জের নিয়মতপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আড়ুয়াশলুয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মধ্য দিয়ে যাওয়া কাঁচা রাস্তাটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। অনেক সময় পায়ে হেঁটে চলতেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
কৃষক নাজমুল হোসেন জানান, নির্বাচনের আগে রাস্তাটি পাকা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে আর কোনো খোঁজ থাকে না। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে মাঠ থেকে উৎপাদিত ফসল বাড়িতে নেওয়া কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাড়তি পরিবহন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি গুনতে গিয়ে উৎপাদন খরচ অনেকাংশেই বেড়ে যাচ্ছে, যা স্থানীয়দের আর্থিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে টেকসই রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। এলাকার কৃষকদের ভাষ্য, ফসল উৎপাদনের পর তা মাঠ থেকে বাড়িতে নেওয়াই তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ জানান, যেসকল রাস্তার এখনো আইডি করা হয়নি, সেগুলোর তালিকা তৈরির জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আড়ুয়াশলুয়া গ্রামের এই রাস্তাটির আইডি করার জন্যও আবেদন জানানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, রাস্তাটি পাকাকরণের লক্ষ্যে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। আইডি পাওয়ার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে দরপত্রের মাধ্যমে দ্রুত নির্মাণের কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
Leave a Reply