অক্টোবর মাসের মহাজাগতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ হলো ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি। পৃথিবী যখন হ্যালির ধূমকেতু বা হ্যালিস কমেটের ফেলে যাওয়া ধূলিকণা ও ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে, তখন প্রতিবছর এই চমৎকার দৃশ্যের অবতারণা হয়। চলতি বছরে ২১ ও ২২ অক্টোবর এই উল্কাবৃষ্টির সবচেয়ে সক্রিয় বা পিক সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষত ২১ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ভোরের মধ্যবর্তী সময়টি এই মহাজাগতিক সৌন্দর্য দেখার জন্য সবচেয়ে অনুকূল। আজ ২১ ও আগামীকাল ২২ অক্টোবর রাতের দিকে এই উল্কাবৃষ্টির চরম বা পিক সময়।
ওরিয়ন নক্ষত্রমণ্ডলের লাল দানব তারা বেটেলজিউসের আশপাশের এলাকা থেকে এই উল্কা ছড়িয়ে পড়ে বলেই একে ওরিওনিড বলা হয়। হ্যালির ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছরে একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে এবং ২০৬১ সালে এটি পুনরায় পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান হবে। ওরিওনিড হলো হ্যালির ধূমকেতুর অবশিষ্টাংশ থেকে তৈরি হওয়া বছরের দ্বিতীয় উল্কাপাত, যার আগে মে মাসে ইটা অ্যাকুয়ার্ডস উল্কাপাত দেখা গিয়েছিল।
আদর্শ ও অন্ধকার আকাশ পেলে এ সময় প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি উল্কাপাত দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বছর চাঁদ ৭৪ শতাংশ আলোকিত থাকায় এর উজ্জ্বল আলোয় অনেক ফিকে উল্কা দেখা না-ও যেতে পারে। যদিও চাঁদ ডুবে যাওয়ার পর ভোরের আগের কয়েক ঘণ্টা বেশ অন্ধকার থাকে, তখন পূর্ণ মহিমায় উল্কাপাত উপভোগ করা সহজ হবে। এ জন্য বিশেষ কোনো যান্ত্রিক সরঞ্জামের প্রয়োজন নেই, তবে শহর থেকে দূরে কোনো পরিষ্কার ও অন্ধকার জায়গায় আকাশ পর্যবেক্ষণ করা ভালো। তবে পরিষ্কার আকাশ এবং খোলা জায়গা থাকা জরুরি।
উল্কাপাত ভালোভাবে দেখার জন্য চোখে অন্ধকার সয়ে নিতে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় দিতে হবে। হ্যালির ধূমকেতুর প্রাচীন কণাগুলো ঘণ্টায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ মাইল বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। বায়ুমণ্ডলের সাথে সংঘর্ষের ফলে এগুলো বাষ্পীভূত হয়ে আকাশের বুকে প্রাকৃতিক আতশবাজির ন্যায় উজ্জ্বল রেখা তৈরি করে। সঠিক সময়ে পরিষ্কার আকাশের নিচে থাকলে এই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব হবে। রাতের আকাশে উজ্জ্বল তারার খসে পড়ার এই দৃশ্য বিজ্ঞানপ্রেমী ও সাধারণ মানুষের জন্য এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
Leave a Reply