বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২০ অপরাহ্ন

থ্রিডি বায়োপ্রিন্টিংয়ে যেভাবে তৈরি হয় কৃত্রিম টিস্যু

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৩ সময় দেখুন

প্রথাগত প্লাস্টিক বা রেজিনের পরিবর্তে জীবন্ত কোষ এবং বিশেষ জৈব উপাদানের সমন্বয়ে ত্রিমাত্রিক কাঠামো তৈরির উদ্ভাবনী পদ্ধতিই হলো থ্রিডি বায়োপ্রিন্টিং। প্রকৌশল, জীববিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং উপাদানবিজ্ঞানের এক অনন্য মেলবন্ধন এই প্রযুক্তি। এর প্রধান লক্ষ্য হলো মানবদেহের ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামত করা, নতুন ওষুধের কার্যকারিতা সঠিকভাবে যাচাই করা এবং পুনর্জন্ম চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা।

বায়োপ্রিন্টিংয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয় ‘বায়োইঙ্ক’ তৈরির মাধ্যমে। জীবন্ত কোষের সঙ্গে কোলাজেন, জেলাটিন, অ্যালজিনেট বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিড মিশিয়ে এটি প্রস্তুত করা হয়। এরপর কম্পিউটারের নির্দিষ্ট নকশা অনুযায়ী বায়োপ্রিন্টারের সাহায্যে স্তর বিন্যাসের মাধ্যমে ত্রিমাত্রিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়। এক্সট্রুশন, ইঙ্কজেট, লেজার, শব্দতরঙ্গ, চৌম্বকীয় ক্ষেত্র বা আলোর মাধ্যমে এই প্রিন্টিং করা সম্ভব। প্রিন্টিং শেষ হওয়ার পর কোষগুলোকে পুষ্টি ও অক্সিজেন দিয়ে কৃত্রিম পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া হয়।

বর্তমান সময়ে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তরুণাস্থি, ত্বক, হাড় এবং স্পন্দনক্ষম হৃৎপিণ্ডের টিস্যু কাঠামো তৈরি করছেন বিজ্ঞানীরা। পাশাপাশি ক্যানসার গবেষণা এবং মস্তিষ্ক, যকৃৎ ও অগ্ন্যাশয়ের ছোট টিস্যু মডেল তৈরিতেও এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। এটি মূলত ক্ষত সারানো, অঙ্গ মেরামত, স্নায়ুতন্ত্রের রোগ নির্ণয় এবং ওষুধের কার্যকারিতা নিখুঁতভাবে পরীক্ষার সুযোগ করে দিচ্ছে। ভবিষ্যৎ চিকিৎসা বিজ্ঞানে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু পুনর্গঠন ও গবেষণার প্রসারে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত তথ্য

  • সূত্র: এআইসিএইচই ডটওআরজি (AICHE.org)
  • টেকবার্তার সঙ্গে যোগাযোগ: [email protected]
  • প্রতিবেদন প্রস্তুতকারক: আহসান হাবীব

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর