রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৫ অপরাহ্ন

মেটার গিটহাব রিপোজিটরিতে সাইবার হামলা, ফাঁস ১৫০০ কর্মীর তথ্য

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৩ সময় দেখুন

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান মেটার গিটহাব রিপোজিটরিতে অননুমোদিতভাবে অনুপ্রবেশ করেছে হ্যাকাররা। এতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ ব্যক্তির তথ্য খোয়া গেছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। হ্যাকাররা মেটার একজন কর্মীর চুরি হওয়া লগইন তথ্য ব্যবহার করে গিটহাবে সংরক্ষিত কয়েকটি রিপোজিটরিতে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনাটি কয়েক সপ্তাহ আগে শনাক্ত করে মেটার নিরাপত্তা দল। গত মঙ্গলবার থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকাংশেরই মেটার কর্মী হিসেবে পরিচয় পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার থেকে তাঁদের এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গিটহাব সফটওয়্যার নির্মাতাদের মধ্যে জনপ্রিয় একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। এ সময় সীমিতসংখ্যক ব্যক্তির কিছু ব্যক্তিগত তথ্যও তাদের নাগালে আসে।

প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম সিকিউরিটিওয়িককে মেটা জানায়, চুরি হওয়া তথ্যের প্রায় ৯৯ শতাংশই ছিল ব্যবসায়িক তথ্য এবং বিভিন্ন পণ্যের সোর্স কোড। এতে সফটওয়্যারের সোর্স কোড সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

বাকি ১ শতাংশ ব্যক্তিগত তথ্য। সাধারণত গিটহাবে ব্যক্তিগত তথ্য রাখার কথা নয়, এটি মেটার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তানীতিরও পরিপন্থী। তবে যেসব ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়েছে, তার বড় একটি অংশই কৃত্রিমভাবে তৈরি বা ছদ্মনামের পরীক্ষামূলক তথ্য। ডেভেলপাররা সফটওয়্যার উন্নয়নের কাজে সচরাচর এসব তথ্য ব্যবহার করে থাকেন। মেটার ভাষ্যমতে, আসল ও পরীক্ষামূলক তথ্য একত্রে থাকায় হ্যাকারদের পক্ষে কর্মীদের প্রকৃত তথ্য আলাদা করা বেশ কঠিন হবে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে গিটহাবের তথ্য অনুযায়ী, এটি কোনো সুনির্দিষ্ট বা পরিকল্পিত তথ্য চুরির হামলা নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে গিটহাবের সঙ্গে যোগাযোগের ভিত্তিতে মেটা আরও জানিয়েছে, হ্যাকাররা বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠানটির তথ্য চুরির উদ্দেশ্যে এ হামলা চালিয়েছে, এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

মেটার এক মুখপাত্র স্পষ্ট করেছেন যে, এই নিরাপত্তা ত্রুটি মেটার কোনো পণ্যের গাফিলতি বা দুর্বলতার কারণে ঘটেনি। প্রতিষ্ঠানের মূল অভ্যন্তরীণ সিস্টেম ও নেটওয়ার্কে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশের ঘটনাও ঘটেনি। হ্যাকাররা কেবল গিটহাবে থাকা সীমিত তথ্যে প্রবেশ করতে পেরেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মেটার নিরাপত্তা দল দ্রুত হ্যাকারদের প্রবেশের পথ বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে গিটহাবের নিরাপত্তা দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাথে সমন্বয় করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। রিপোজিটরিগুলোর নিরাপত্তা বাড়াতে গিটহাবের সঙ্গেও অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পরিচয় চুরি বা ফিশিংয়ের ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে মেটা বিনা মূল্যে ক্রেডিট পর্যবেক্ষণ এবং ডার্ক ওয়েব পর্যবেক্ষণ সেবা দিচ্ছে। এর পাশাপাশি সংবেদনশীল তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে গিটহাব রিপোজিটরিতে থাকা গোপন সংকেত (সিক্রেটস) এবং প্রবেশাধিকারের তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত তথ্য যেন কোনোভাবেই রিপোজিটরিতে আপলোড না হয়, সেজন্য নতুন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। একই সাথে পণ্যের সোর্স কোডসহ অন্যান্য ডিজিটাল সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে বাড়তি নিরাপত্তা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে যাতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর