ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে তেলাপোকা জনতা পার্টি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের ডাকা বিক্ষোভের জেরে গত শনিবার পুরো দিল্লি অচল হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নেওয়া বিভিন্ন কড়া পদক্ষেপ প্রত্যাহারের জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত সাফ জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভকারী কাউকে বেআইনিভাবে আটক রাখা যাবে না। এই নির্দেশের ফলে সরকার বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে। বিচারপতিরা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কেবল প্রয়োজন হলেই বিধিনিষেধ আরোপ করা যাবে।
রোববার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চের বিশেষ শুনানিতে বলা হয়, সিজেপির বিক্ষোভের ডাক থাকলেও আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে প্রয়োজনীয় শর্ত মেনে জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে হবে। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যদি না কোনো পরিস্থিতি ‘অত্যন্ত জরুরি’ হয়, তবে সমস্ত ব্যারিকেড অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে এবং আইন অনুযায়ী ইন্টারনেট পরিষেবা সচল রাখতে হবে। এছাড়া ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস) ২০২৩-এর ১৬৩ ধারা, যার আওতায় বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহারেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শুক্রবারও আদালত কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছিল যেন ১০ অক্টোবর দিল্লিতে মেট্রো ও ট্রেন চলাচলের ওপর কোনো ‘সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ না করা হয়। আদালত বলেছিল, এভাবে সবকিছু স্থবির করে রাখা কাম্য নয়। কিন্তু বাস্তবে মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল, যা আদালতের অবমাননা বলে অভিযোগ তুলেছেন আবেদনকারী আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী।
আদালত বলেছে, মানুষের প্রতিবাদ করার গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে, তবে তা অবশ্যই পুলিশ আইনের আওতাভুক্ত হতে হবে। বিচারপতি বাগচী আবেদনকারীকে স্পষ্ট করে বলেন, তাদের বিক্ষোভের অধিকার কোনোভাবেই পুলিশ আইনের চেয়ে ঊর্ধ্বে নয়। এদিকে, বিক্ষোভকারীদের আটক সংক্রান্ত ঘটনার বিষয়ে দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব এবং দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি)-এর কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ জারি করেছে আদালত। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Leave a Reply