সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ন

সাজেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ: আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩৭ সময় দেখুন

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে পূর্বঘোষিত অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি আজ রোববার সকাল ছয়টা থেকে শুরু হয়েছে। সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির ডাকা এই কর্মসূচির ফলে রুইলুই পর্যটনকেন্দ্রে যাওয়ার প্রধান সড়কটিতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অবরোধকারীরা সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করছেন। তবে বিভিন্ন জায়গায় পিকেটিং করার সময় তাঁদের বাধা দেওয়া হচ্ছে।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, সড়কপথ পুরোপুরি অবরোধ থাকায় স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তবে পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় বেলা দুইটার দিকে নির্দিষ্ট শিডিউলে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। খাগড়াছড়ি মাহিন্দ্রা মালিক কল্যাণ সমবায় সমিতির সভাপতি টুন্টু মনি চাকমা জানান, এখন পর্যটনের ভরা মৌসুম। প্রতিদিন গড়ে প্রায় আড়াই হাজার পর্যটক ৩০টি মাহিন্দ্রা ও জিপে করে এখানে ভ্রমণে আসেন। অবরোধের কারণে বাঘাইহাটের পর থেকে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো আর এগোতে পারেনি। আজ সকালেও অনেক পর্যটক খাগড়াছড়ি শহর থেকে সাজেকের উদ্দেশে রওনা দেন। অবরোধের কারণে পর্যটকেরা বাঘাইহাটের পরে আর যেতে পারেননি। বেলা দুইটায় পর্যটকদের যানবাহন ছাড়ার কথা রয়েছে।

বর্তমানে সাজেকে প্রায় তিন হাজার পর্যটক অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা। তিনি জানান, পরিস্থিতি বুঝে কিছু পর্যটক চলে গেলেও নতুন অনেকে এসেছেন, তবে অবরোধের কারণে আজ সকাল থেকে সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে কোনো গাড়ি ছাড়তে পারেনি। সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ চলছে এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

সড়ক অবরোধের নেপথ্যে রয়েছে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বন্দ্ব ও অভিযোগ। কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও গণ অধিকার রক্ষা কমিটির অভিযোগ, জেএসএস (সন্তু লারমা) এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতা ও সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এই বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার দেওয়া সময়সীমার মধ্যে ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা অবরোধের পথে হেঁটেছেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত বৃহস্পতিবার সমাবেশ করে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।

তবে এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে জেএসএস। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা দাবি করেন, ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের নিপীড়ন ও হয়রানির ঘটনা ধামাচাপা দিতেই তাদের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে। এদিকে ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা জানিয়েছেন, তাদের চাপে কোনো সংগঠন অবরোধ দেয়নি, তবে জনগণের স্বার্থে ডাকা এই কর্মসূচির প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে। তবে জেএসএসের দাবি, স্থানীয় জনসাধারণকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর দাবি ভিত্তিহীন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর