সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন

শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বড় বাধা : মুশফিক

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩৪ সময় দেখুন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ১০ অক্টোবর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং তাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়াটা বাংলাদেশের জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই মন্তব্য করেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে হলে ভারতকে এ দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার পথে আরও সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ফলে আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় রাশিয়ার ভূমিকাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে লেখক আসাঙ্গা আবেয়াগোনাসেকারার নতুন বই ‘উইন্ডস অব চেঞ্জ: জিওপলিটিক্স অ্যাট দ্য ক্রসরোডস অব সাউথ অ্যান্ড সাউথইস্ট এশিয়া’ নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা পরাশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের ভূরাজনীতি এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা করেন। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন গ্লোবাল ফোরসাইট স্ট্র্যাটেজিসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী প্যাটি মরিস। প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দ্য মিলেনিয়াম প্রজেক্টের নির্বাহী পরিচালক জেরোম সি. গ্লেন এবং আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক রেসিডেন্ট সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান। এছাড়াও সাংবাদিক ও কূটনীতিকসহ বিশিষ্টজনেরা সভায় অংশ নেন।

মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে হয় জনগণের সঙ্গে, কেবল কোনো নির্দিষ্ট নেতা বা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক সীমাবদ্ধ রাখা সঠিক নয়। বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক প্রত্যাবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, মানুষ এখন রাষ্ট্র পরিচালনায় নিজেদের কণ্ঠস্বর ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত দেখতে চায়। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার যে প্রক্রিয়া চলছে, তা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আনসারী জোর দিয়ে বলেন, তিনি ভারত ও চীন—উভয় দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্ব সম্প্রসারণের পক্ষে, তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে সার্বভৌমত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতি চীনের সহযোগিতামূলক মনোভাবকে তিনি স্বাগত জানান এবং উন্নয়নমূলক অংশীদারত্বকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে আনসারী বলেন, এ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং জবাবদিহিমূলক সরকারের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। নিজ জনগণের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা বাংলাদেশের থাকতে হবে।

আটলাস্টিক কাউন্সিলের মাইকেল কুগেলম্যান দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে জানান, ভারত থেকে সরে গিয়ে চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে—এই সরল ব্যাখ্যা সবসময় সঠিক নয়। মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা বা নেপালের মতো দেশগুলো বরং বড় দুই শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও ভালো ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি এবং জ্বালানি খাতে মস্কোর সম্পৃক্ততা এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। কুগেলম্যানের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের প্রভাব বৈশ্বিক সম্পর্কের ওপর ব্যাপক পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে। ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক লালগালিচা অভ্যর্থনাকে সংলাপ ও সহযোগিতার গুরুত্বের একটি ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, বড় প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোও পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে; দক্ষিণ এশিয়ার সম্পর্কেও একই মনোভাব প্রয়োজন।

জেরোম সি. গ্লেন বিশ্ব রাজনীতিতে প্রচলিত ‘জিরো-সাম’ বা এক পক্ষের লাভ মানেই অন্য পক্ষের ক্ষতি—এমন প্রতিযোগিতামূলক ধারণার সমালোচনা করেন। তিনি ভবিষ্যতে প্রযুক্তির ক্ষুদ্র ও শক্তিশালী হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, একজন ব্যক্তির পক্ষেও গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। গ্লেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং সম্মিলিত সুফল তৈরির ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানান। রাশিয়াও এ অঞ্চলে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করছে। প্রতিযোগিতার মানসিকতা বদলানোর আহ্বান গ্লেনের জেরোম সি।

অনুষ্ঠানের সমাপনীতে লেখক আসাঙ্গা আবেয়াগোনাসেকারা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও পরাশক্তির উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছোট রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বকে প্রভাবিত করছে। তাই বিভিন্ন প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সমঝোতার ক্ষেত্রে কেবল রাজনৈতিক প্রতীকের দিকে না তাকিয়ে বাস্তব সুফল ও বাস্তবায়নের দিকে নজর দিতে হবে। তিনি সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সংকটের মতো চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় আগাম কূটনৈতিক প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। আয়োজনে ক্যাথলিন কেনেডি ও মার্ক শোয়েফ জুনিয়রসহ অন্যান্য বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর