বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ন

জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা করিনি বরং আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার প্রথম প্রতিবাদ করেছি : সাবেক উপাচার্য কলিমুল্লাহ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬
  • ২৫ সময় দেখুন

ঢাকা, ৩০ জুলাই ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে শুনানির সময়  জুলাই আন্দোলনের এক হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ দাবি করেছেন, তিনি জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা করেননি। বরং আন্দোলনে নিহত রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার প্রথম প্রতিবাদ তিনিই করেছিলেন।

তবে শুনানি শেষে আদালত তাকে জুলাই আন্দোলনের সময়ের মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই হেলাল উদ্দিন গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে কলিমুল্লাহর আইনজীবী আব্দুর রশীদ তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার না দেখানোর আবেদন জানান। তিনি বলেন, দুর্নীতির মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন তার মক্কেল। জামিননামা কারাগারে পৌঁছানোর পর তাকে আটকে রাখতে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।

আদালতের অনুমতি নিয়ে নিজের বক্তব্যে কলিমুল্লাহ বলেন, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে নির্বাচন পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং যা দেখেছেন, তাই তুলে ধরেছেন।

এ সময় বিচারক নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করলে কলিমুল্লাহ বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসেবে তার দায়িত্ব ছিল ভোটগ্রহণের দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এর আগে বা পরে কী হয়েছে, তা তার জানার কথা নয়। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনের অনিয়ম নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।

এরপর আবু সাঈদের প্রসঙ্গ তুলে কলিমুল্লাহ বলেন, “আবু সাঈদ আমার ছাত্র। আবু সাঈদ হত্যার প্রতিবাদ প্রথম আমিই করি। এর রেকর্ড আছে। আমি জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতা করিনি। আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পর প্রতিবাদ জানিয়ে জনমত গঠন করি।”

আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময়ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি একই দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই উত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টরের রবীন্দ্র সরণি এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর গুলির ঘটনায় মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বির আহত হন। পরে এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর উত্তরা পশ্চিম থানায় করা মামলায় ৯০ জনকে আসামি করা হয়।

এর আগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা দুদকের একটি মামলায় গত বছরের ৭ আগস্ট কলিমুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তিনি কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন। এর মধ্যেই তদন্ত কর্মকর্তা তাকে জুলাই আন্দোলনের হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর