সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বৈঠকে তিনটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
  • ২৬ সময় দেখুন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ২২ জুন ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়া সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাত্র ১৮ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি, শিক্ষা, শ্রমবাজার, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও সমঝোতা হয়েছে।

সফরকালে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সন্ত্রাস দমনে সহযোগিতা সংক্রান্ত দুটি ‘এক্সচেঞ্জ অব নোটস’ বিনিময় করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমে একান্ত বৈঠক এবং পরে সীমিত ও সম্প্রসারিত পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম সুলতান ইস্কান্দার-এর সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হয়। বৈঠকগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়।

সফর শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া মোট ৯টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হয়েছে। এসব খাতের মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, শ্রমবাজার, শিক্ষা, জ্বালানি এবং প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা। এ লক্ষ্যে দুই দেশের সম্মতিতে ৩৩ দফার একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।

দুই দেশের সরকারপ্রধান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। একই সঙ্গে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বৈঠকে হালাল শিল্পের সম্ভাবনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ খাতে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে উৎপাদন, সনদ প্রদান, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সাইবার নিরাপত্তা এবং আধুনিক প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশের প্রযুক্তি পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুত শ্রমবাজার চালুর আহ্বান জানান এবং কম খরচে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন কারণে অবৈধ অবস্থায় থাকা বা কারাগারে থাকা বাংলাদেশিদের বিষয়ে মানবিক ও সহানুভূতিশীল ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।

শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব, যৌথ গবেষণা এবং কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার সম্প্রসারণে দুই দেশ একমত হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামরিক প্রশিক্ষণ, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সমন্বয় এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও দুই দেশ সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি এলএনজি, তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং তাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সফরকালে মালয়েশিয়ার পাঁচটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এর মধ্যে ছিল পেট্রোনাস, আজিয়াটা গ্রুপ, এয়ারএশিয়া, পেরোদুয়া এবং এমএমসি পোর্ট হোল্ডিংস। বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

এদিকে একই সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির বলেন, দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পণ্য, বাণিজ্য ও শ্রমবাজারসংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হয়েছে এবং বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের বিষয়ে উভয় পক্ষ ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সংক্ষিপ্ত হলেও অত্যন্ত ব্যস্ত ও ফলপ্রসূ এই সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, জনশক্তি রপ্তানি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর