রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৪:৪৫ অপরাহ্ন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে কৃষ্ণচূড়ার আগুন-রঙা আল্পনা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৭ সময় দেখুন

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি-বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): গ্রীষ্ম মানেই তীব্র রোদ, দাবদাহ। এই কঠিন সময়ে প্রকৃতি সাজে রঙিন ফুলের উৎসবে। শহর, গ্রাম-সবখানেই ফুটছে নানান ফুল। তপ্ত রোদ আর খরার মাঝেও প্রকৃতি যেন হার মানে না। গ্রীষ্ম এলেই ফুটে কৃষ্ণচূড়া,, সোনালু, জারুল আর রাধাচূড়া। সড়কের মাঝে আভা ছড়ায় কাঠগোলাপ। শহরের সড়ক, গ্রামের পথঘাট কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনা-সবখানেই রঙিন ফুলের সমাহার। কৃষ্ণচূড়া, জারুল, ও রাধাচূড়া-এ মৌসুমের প্রধান আকর্ষণ। আগুনরঙা পাপড়িতে দৃষ্টি কাড়ে কৃষ্ণচূড়া। অনেকেই একে ‘ফ্লেম ট্রি’ বলে।

জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাসে কৃষ্ণচূড়ার ফুলকে ভাষা শহীদদের রক্তের সাথে তুলনা করা হয়েছে। মনে পড়ে যায় কবি শামসুর রাহমানের। কবিতার নাম ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’। সেখানে তিনি লিখেছেন:

​”আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে
কেমন নিবিড় হয়ে। কখনও মিছিলে কখনও বা একা হেঁটে যেতে যেতে মনে হয়—
ফুল নয়, ওরা শহীদের ঝলকিত রক্তের বুদবুদ, স্মৃতিগন্ধে ভরপুর।”

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে ভোলার রোড সহ বিভিন্ন সড়কে কৃষ্ণচূড়ার লাল ছটা যেন গ্রীষ্মের প্রতীক হয়ে উঠেছে। আগুন রঙের ফুল শান্ত, কোমল আবহ তৈরি করে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস কৃষ্ণচূড়া

উপস্থিতি চোখে পড়ে। সোনালি ঝাড়ের মতো ঝুলে থাকা সোনালু ফুল গ্রীষ্মের অনন্য উপহার। এটি জাতীয় বৃক্ষ হিসেবেও পরিচিত। হলুদ-কমলা মিশ্রণে ফুটে থাকা রাধাচূড়া ফুল প্রকৃতিকে বৈচিত্র্যময় করে তোলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ফুল শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না, পাখি, মৌমাছি ও প্রজাপতির খাদ্যও জোগায়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এদের ভূমিকা অপরিসীম। নগরায়ণ, গাছ কাটার প্রবণতা ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে অনেক জায়গায় এই গাছগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক রাকিবুল ইসলাম বলেন, গ্রীষ্মের এসব ফুল প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। সংরক্ষণে সচেতনতা জরুরি। এসব ফুলে আছে ওষুধি গুণও।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর