ঢাকা, ০২ মে ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার অডিটোরিয়ামে ‘ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে প্রক্রিয়াগত প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জুডিশিয়াল অ্যাকটিভিজম (বিচারিক সক্রিয়তা) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পাশাপাশি আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। মামলা দীর্ঘায়িত করার প্রবণতা রোধে বিচারকদের আরও সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেন মন্ত্রী।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দেশের আদালতগুলোতে মামলার জট কমাতে সরকার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে মধ্যস্থতা (মেডিয়েশন) কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে নতুন মামলা করার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যহারে কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের ক্ষেত্রে দেশের সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনা করা জরুরি। শুধু আবেগের বশবর্তী হয়ে নয়; গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই কার্যকর আইন প্রণয়ন করা সম্ভব।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিচারকদের আইনসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকার পুরোপুরি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দেবে।
অতীতে সৎ বিচারকদের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টির উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রবণতা প্রতিহত করতে হবে।
তিনি বিচার ব্যবস্থায় বিদ্যমান আমলাতান্ত্রিক জটিলতার বিষয় তুলে ধরে বলেন, ছোট ছোট প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণেই অনেক সময় বিচারকরা দ্রুত বিচারকাজ সম্পন্ন করতে পারেন না। এসব সমস্যা সমাধানে বিচারকদের ক্ষমতায়ন এবং প্রশাসনিক সংস্কার করা প্রয়োজন।
মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে দেশে ৪০ লাখের অধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীন প্রায় ৩ লাখ মামলা। বিচারকের সংখ্যা সীমিত হওয়ায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগের সক্ষমতা আরও বাড়ানো জরুরি। এ লক্ষ্যে বিচার বিভাগের জন্য বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহর সভাপতিত্বে সেমিনারে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন বক্তব্য রাখেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ উম্মে কুলসুম।
Leave a Reply