শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৭ অপরাহ্ন

দারিদ্র্য বিমোচনে ইসলামের নির্দেশনা ও করণীয়

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৭ সময় দেখুন

ইসলাম মানবজীবনের প্রতিটি সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণই মূলত শান্তি ও সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ করো’ (সুরা বাকারা, আয়াত ২০৮)। দারিদ্র্য মানুষের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে। ইসলামের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে পালন করলে একটি দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গঠন করা সম্ভব। আর যদি সদকা করে দাও, তবে তোমাদের পক্ষে সেটাই অধিকতর শ্রেয়, যদি তোমরা উপলব্ধি করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৮০)। আরও বলেন, ‘তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে এক ব্যক্তির কাছে ফেরেশতা তার প্রাণ হরণের জন্য এসেছিলেন। জীবনের নানা সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন ইসলামের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ।

দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাতব্যবস্থা ইসলামের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। এটি ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি এবং ফরজ ইবাদত। জাকাতের মূল লক্ষ্য হলো ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমিয়ে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের সম্পদে রয়েছে প্রার্থনাকারী ও বঞ্চিতের অধিকার’ (সুরা জারিয়াত, আয়াত ১৯)। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই বিধান সম্পর্কে বলেছেন, আল্লাহ ধনীদের সম্পদে জাকাত ফরজ করেছেন, যা তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে গরিবদের মধ্যে বণ্টন করা হবে (সহিহ বুখারি, হাদিস ১৩৯৫)।

ইসলামে ঋণগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অনেক দরিদ্র মানুষ ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ে, যা তাদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তোলে। কোরআনের বিধান অনুযায়ী, অসচ্ছল ঋণগ্রহীতাকে সচ্ছল হওয়া পর্যন্ত সময় দেওয়া বা অবকাশ দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা সুরা বাকারার ২৮০ নম্বর আয়াতে উল্লেখ করেছেন, কোনো ঋণগ্রহীতা অসচ্ছল হলে তাকে সচ্ছলতা লাভ করা পর্যন্ত অবকাশ দিতে হবে। এমনকি অভাবী ও ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে জাকাতের অর্থ দিয়ে সহায়তা করার ব্যবস্থাও ইসলামে রয়েছে (সুরা তাওবা, আয়াত ৬০)। সদকাহ বা মাফ করার মানসিকতা প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ব্যক্তির ঘটনা উল্লেখ করেছেন, যে ব্যক্তি সচ্ছলদের সময় দিত এবং অভাবীদের ঋণ মওকুফ করে দিত—এই গুণের কারণে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৪৫১)। ইসলাম তাঁদের ঋণ পরিশোধের জন্য অবকাশ দেওয়া কিংবা ঋণ মওকুফের বিধান দিয়েছে। ঋণ পরিশোধে অবকাশ দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। এরপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, তুমি কি কোনো ভালো কাজ করেছ।

দারিদ্র্য বিমোচনের আরেকটি মাধ্যম হলো দান-সদকা। এটি কেবল একটি মানবিক কাজ নয়, বরং দুস্থ মানুষের স্বাবলম্বী হওয়ার পথে বড় সহায়। জাকাত ও ফিতরার বাইরেও সাধারণ দান-সদকার প্রতি ইসলাম উৎসাহিত করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক মুসলিমের ওপর দান-সদকা করা একান্ত জরুরি (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০০৮)।

ইসলামে জীবিকা অর্জনের একটি সম্মানজনক ও পবিত্র উপায় হিসেবে ব্যবসাকে উৎসাহিত করা হয়েছে। ব্যবসা মানুষকে পরিশ্রমী হতে শেখায় এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করতে সাহায্য করে। এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ব্যক্তিকে আত্মবিশ্বাসী ও দক্ষ করে গড়ে তোলে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নামাজ শেষ হয়ে গেলে তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করো। আর বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো’ (সুরা জুমা, আয়াত ১০)।

এই নিবন্ধটি লিখেছেন অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজমের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর