আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-রংপুর, ২২ জুলাই ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চৈত্রকোল ইউনিয়নের খাসতালুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে প্রাইভেট না পড়ার কারণে ১৮ জন শিক্ষার্থীকে এলোপাতাড়ি মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। অভিভাবক, সচেতন মহল ও স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগে জানা যায়, সম্প্রতি শ্রেণিকক্ষে প্রাইভেট না পড়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিম ১৮ জন শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে রিয়ন ও আয়শার শারীরিক অবস্থা তুলনামূলকভাবে বেশি খারাপ বলে দাবি করেছেন অভিভাবকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে প্রাইভেট না পড়া শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। পাশাপাশি চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির অর্থ প্রাইভেট পড়ানোর নামে আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। টাকা দিতে অপারগ বা অনাগ্রহী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন অভিভাবকরা।
এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকদের প্রশ্ন, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কীভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর এমন নির্যাতন চালাতে পারেন? তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোসলেম উদ্দিন শাহ বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল ইসলাম বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু তদন্তের আশ্বাস নয়, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অভিযুক্ত শিক্ষক দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের নির্যাতনের শিকার না হয়।
Leave a Reply