সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ন

অকেজো রেললাইন নিলামে বিক্রি না করার কারণ, বিভিন্ন লাইনে বর্তমানে ট্র্যাক রিনিউয়াল বা ট্র্যাক পরিবর্তনের কাজ চলছে : সংসদে রেলপথ মন্ত্রী

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬
  • ৩০ সময় দেখুন

ঢাকা, ১৫ জুন ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের সপ্তম দিনে সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির লিখিত প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন লাইনে বর্তমানে রেলওয়ে ট্র্যাক রিনিউয়াল বা ট্র্যাক পরিবর্তনের কাজ চলমান রয়েছে। এদিন সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন লাইনে বর্তমানে রেলওয়ে ট্র্যাক রিনিউয়াল বা ট্র্যাক পরিবর্তনের কাজ চলমান রয়েছে। এই কাজ চলাকালীন সময়ে রেলপথে ব্যবহারযোগ্য রেলগুলেঅ সংশ্লিষ্ট কাজের স্থানেই সাময়িকভাবে সংরক্ষণ করা হয় এবং পরবর্তীতে এগুলো দিয়েই রেল রিপ্লেসমেন্টের কাজ সম্পন্ন করা হয়। রেল পরিবর্তনকালীন সময়ে এসব অকেজো বা পুরনো রেল সাময়িকভাবে অগোছালো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেলেও কাজ শেষ হওয়ার পর তা নির্ধারিত নিরাপদ স্থানে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হয়।

পুরনো রেল নিলামে বিক্রি না করার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, এসব অকেজো রেল পরবর্তীতে রেলওয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উইং তথা এমব্যাঙ্কমেন্ট প্রটেকশন বা বাধ সুরক্ষার কাজে ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন অবৈধ লেভেলক্রসিং গেটসমূহে রেলফেন্সিং বা বেড়া দেওয়ার কাজেও এগুলো অত্যন্ত কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি একটি বিশাল অঙ্কের আর্থিক ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে। অকেজো রেলসমূহ এভাবে সরাসরি রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা ও সুরক্ষার কাজে পুনর্ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় তা উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করা সম্ভব নয়।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা নিশিতার এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য এমজি ট্যাংকার ওয়াগন সংগ্রহের পরিকল্পনা আপাতত নেই।

সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ বর্তমানে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। দেশের জেলা মহাসড়ক, আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং জাতীয় মহাসড়কসমূহের যেসব নির্দিষ্ট জায়গায় বারবার দুর্ঘটনা ঘটে, সেই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক বা স্থানগুলোকে ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেসব স্থানে দ্রুত সংস্কার কাজ পরিচালনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সাইন-সিগন্যাল স্থাপন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে স্পিডব্রেকার নির্মাণ, জেব্রা ক্রসিং এবং রাম্বল স্ট্রিপ বা গতিরোধক রেখা স্থাপন করার কাজও পুরোদমে চলমান রয়েছে।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, বরং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধসহ সামগ্রিক সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে দেশব্যাপী ব্যাপক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন বা প্রচারণামূলক কার্যক্রম চালানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প’ নামে একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো সড়ক দুর্ঘটনাজনিত কারণে হতাহত এবং গুরুতর আঘাতের সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার ভিত্তিতে উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা।

পাশাপাশি গাড়িচালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বাড়াতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএ-এর মাধ্যমে একটি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, এখন থেকে দেশব্যাপী বছরব্যাপী পেশাজীবী পরিবহন গাড়িচালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের পূর্বে বাধ্যতামূলকভাবে সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক রিফ্রেসার্স প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অদক্ষ চালকদের কারণে মহাসড়কে যে প্রাণহানি ঘটে, তা প্রতিরোধে এই প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর