আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-রংপুর, ০৯ জুন ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মাদারগঞ্জ দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়টি যেন দূর্নীতির এক অভয়ারণ্য। সূত্র মতে বিগত সরকারের আমলে মব কালচারের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক শাহ্ মো. তাজুল ইসলাম শামীমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলে ০৭/১২/২২ খ্রিঃ তারিখে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন ওই বিদ্যালয়ের সহঃ প্রধান শিক্ষক মো. একরামুল ইসলাম প্রধান। উল্লেখ্য শাহ্ মো. তাজুল ইসলাম শামীম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে ০৬/০৩/২০১১ খ্রিঃ থেকে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
বিভিন্ন তথ্য-সূত্রের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা জানতে পারেন। সূত্র মতে, মো. একরামুল ইসলাম প্রধান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সঙ্গীয় কিছু শিক্ষকের প্ররোচনায় বিদ্যালয়টিকে আর্থিক অনিয়ম, লুটপাট ও দূর্নীতির অভয়াশ্রম গড়ে তোলেন। প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতির সুযোগে এলাকার কুখ্যাত হিসেবে পরিচিত সহকারি শিক্ষক মো. আব্দুল মতিন মন্ডলের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় একরামুল ইসলাম প্রধান এর নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের অর্থ তছরুপ করে ভাগ বাটোয়ারা করেন বলে জানা গেছে। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত আয়কে কাল্পনিক ব্যয় ভাউচারের মাধ্যমে বিগত তিন বছরে এক কোটি সাত লক্ষ টাকা তছরুপের প্রমাণ মিলেছে।
ঐতিহ্যবাহী মাদারগঞ্জ দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গত তিন বছরে কোটি টাকার দূর্নীতির খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আয়ন-ব্যয়ন পকেট কমিটির মাধ্যমে নাম সর্বস্ব,ভূয়া ভাউচার ও কাল্পনিক ব্যয় দেখিয়ে এক কোটি সাত লক্ষ টাকা লোপাট করে ভাগ বাটোয়ারা করেন। এ কাজে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেন, সহকারি শিক্ষক মো. আব্দুল মতিন মন্ডল,মো. ভীম কবীর ও ক্যাশিয়ার কান্তি ভূষন সরকার। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের মব সন্ত্রাসে সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক শাহ্ মো. তাজুল ইসলাম শামীম বিদ্যালয়ে যোগদান করে ওইসব অসামঞ্জস্য দেখতে পান। যার কোন সদুত্তর দিতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
অসাঞ্জস্য বিল-ভাউচারগুলির মধ্যে- বিদ্যালয়ের পতাকাস্ট্যান্ড নির্মাণে পাঁচশত ইটের কাজে ব্যয় দেখানো হয় দুই লাখ আশি হাজার টাকা,মাত্র চল্লিশ হাজার টাকায় ঘর মেরামত ও রং করার ভাউচার করা হয় দুই লক্ষ সত্তুর হাজার টাকা,বিদ্যালয় মাঠে মাটি ভরাটের নামে ৯৫ হাজার টাকা উত্তোলন দেখানো হলেও এক কোদাল মাটিও ফেলা হয়নি সেখানে। শিক্ষার্থীদের গান ও তবলা প্রশিক্ষনের নামে এক লাখ বিশ হাজার টাকা ভাউচার করা হলেও বাস্তবে দু’জন প্রশিক্ষককে মাত্র ১৬ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। বিদ্যালয় গ্যারেজ থেকে দু’জন শিক্ষার্থীর বাই সাইকেল হারালে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১৩ হাজার টাকা দিয়ে ১০টি বাইসাইকেল ক্রয় দেখিয়ে ৫৫ হাজার টাকার ভাউচার করা হয়। এমন অসংখ্য কাল্পনিক বিল ভাউচারের ফটোকপি সংগ্রহ করা হয়েছে।
স্মরণযোগ্য যে, বিদ্যালয়ে ৯৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এক সময় শিক্ষার মান অনেক ভাল থাকলেও বর্তমানে সে অবস্থা আর নেই। বিদ্যালয় পরিচালনায় অদুরদর্শিতা ও ব্যর্থতার কারণে শিক্ষার মান অনেক নীচে নেমেছে বলে একাধিক অভিভাবক জানান। ইতোমধ্যেই এনএসআই ও ডিএসবি’র দুই কর্মকর্তা পৃথক পৃথক তদন্তে সত্যতা পেয়েও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। প্রধান শিক্ষক শাহ্ মো. তাজুল ইসলাম শামীম বলেন, স্থানীয় সচেতন মহলের সহায়তায় বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply