শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন

দেশের স্বার্থ বিরোধী চক্র কিন্তু এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে, বিভাজন নয়, ঐক্যই দেশের শক্তি : তারেক রহমান

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৯ সময় দেখুন

ঢাকা, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ ১৬ এপ্রিল ওসমানী মিলনায়তনে আয়োজিত স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান  বলেছেন, ‘দেশের স্বার্থ বিরোধী চক্র কিন্তু এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে’ ।

এ অনুষ্ঠানে তিনি বীর শহিদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করে বলেন, বিভাজন নয়, ঐক্যই দেশের শক্তি। একই সঙ্গে তিনি সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, দুর্নীতি দমন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহিদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে আহত ও পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিও ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাদের আত্মত্যাগকে জাতির অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত দেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে যারা জীবন দিয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন—তাদের অবদান জাতি কখনো ভুলবে না।

স্বাধীনতা পুরস্কারকে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধের সকল জাতীয় নেতার অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং ইতিহাসের সত্যকে সম্মান করার আহ্বান জানান।

চলতি বছর ১৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে তিনি তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর এই সম্মাননায় ভূষিত করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের অবদান দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরেও সমাদৃত হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাংলাদেশের অনেক অর্জন থাকলেও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রতিহিংসা ও অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক পরিহার করে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

শিক্ষা খাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করা জরুরি। এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী, তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে এবং প্রতিটি অঙ্গীকার পূরণে বদ্ধপরিকর।

বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও সরকার জনগণের স্বার্থে বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।

শেষে তিনি দেশবাসীর প্রতি অপচয় পরিহারের আহ্বান জানান এবং পুরস্কারপ্রাপ্তদের জাতির গৌরব হিসেবে উল্লেখ করে তাদের সাফল্যকে আগামী প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর