সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন

জামায়াতে ইসলামী এই যুগে সবচেয়ে বড় দল হলেও আমরা কোনো দলীয় সরকার কায়েম করতে চাই না : ডা. শফিকুর রহমান

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১২৪ সময় দেখুন

কুড়িগ্রাম, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) কুড়িগ্রাম কলেজ মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী এই যুগে সবচেয়ে বড় দল হলেও আমরা কোনো দলীয় সরকার কায়েম করতে চাই না। আমরা পরিবারতন্ত্র বা গোষ্ঠীতন্ত্রও কায়েম করতে চাই না। এমনকি আমরা বাংলাদেশ ইসলামী কিংবা জামায়াতের বিজয়ও চাই না, আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই বিজয়ের সূচনা হয়েছে তিস্তা পাড় থেকে। সারা বাংলায় এখন মুক্তির গণজোয়ার শুরু হয়েছে। এ আন্দোলনে দেশের মেয়েরাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি জুগিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মা-বোনদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আমাদের সবকিছুর বিনিময়ে আপনাদের চলাচলে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

নিজের আইডি হ্যাক হওয়া বিষয়ে তিনি বলেন, চার দিন আগে আমার এক্স (সাবেক টুইটার) আইডি হ্যাক করে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছিল। একটি দল ‘তাইরে নাইরে’ বলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। লজ্জাজনকভাবে তাদের চুনোপুঁটিসহ বড় বড় নেতারাও তাতে সায় দেয়। তবে আমাদের সাইবার টিম দ্রুত অভিযুক্তকে শনাক্ত করেছে এবং পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। সত্য কখনো ঢাকা থাকে না।

শফিকুর রহমান রংপুর অঞ্চলের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আবু সাইদ বলেছিল, ভিতরে তুমুল ঝড়, বুক পেতেছি, গুলি কর। সে পিঠে নয়, বুকে তিনটি গুলি নিয়েছিল। এটাই বীরত্ব। এখান থেকেই জুলাই আন্দোলন জ্বলে উঠেছিল। আপনারা সত্যিই সৌভাগ্যবান।

তিনি বলেন, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন যোদ্ধা হিসেবে আবরার ফাহাদ প্রথম শাহাদাত বরণ করেন। তার পথ ধরেই আবু সাইদ, শরিফ ওসমান হাদীসহ একে একে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন শহীদ হয়েছেন। এই ১ হাজার ৪০০ বীরের লাশ আজ এই জাতির ঘাড়ে। তাদের রক্তে আমাদের নদীগুলো লাল হয়েছে। আমরা এই শহীদদের সঙ্গে কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করবো না।

নদী ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের নদীগুলোকে কঙ্কাল বানিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নদীভাঙন রোধের নামে বরাদ্দ হওয়া বাজেট চোরেরা লুট করেছে। প্রায় ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। আমরা যদি সুযোগ পাই, তাদের বুকের ভেতর হাত ঢুকিয়ে সব বের করে আনা হবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ক্ষমতায় গেলে দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলা কুড়িগ্রাম থেকেই উন্নয়ন শুরু হবে।

জনসভায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব আকতার হোসেন, জেলা জামায়াতের আমির আজিজুর রহমান স্বপন, কুড়িগ্রামের চারটি সংসদীয় আসনের প্রার্থীরা এবং কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের নেতারা।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর