মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ অপরাহ্ন

যারা নিজ দলের নারী কর্মীদেরই সম্মান দিতে পারে না, তাদের কাছে দেশের মানুষ নিরাপদ নয় : তারেক রহমান

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৬৫ সময় দেখুন

খুলনা, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) খুলনার খালিশপুরে প্রভাতী স্কুল মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে মা-বোনদের ঘরের মধ্যে বন্দী করতে চায় এবং তাদের কর্মসংস্থান নিয়ে কলঙ্কজনক মন্তব্য করে। যারা নিজেদের দলের নারী কর্মীদেরই সম্মান দিতে পারে না, তাদের কাছে দেশের মানুষ নিরাপদ নয়।

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে সাম্প্রতিক এক রাজনৈতিক নেতার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, একজন নেতা পরিষ্কারভাবে বলেছেন তারা নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করেন না। কর্মজীবী মা-বোনদের নিয়ে তিনি যে শব্দ ব্যবহার করেছেন, তা এই সমাজের জন্য কলঙ্কস্বরূপ। বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প থেকে শুরু করে প্রতিটি পরিবারে নারীরা আজ আয়ের হাল ধরেছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। অথচ একটি দল তাদের অপমান করছে।

তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী সমাজকে যারা অসম্মান করে এবং কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালি দেয়, তারা আর যাই হোক দেশদরদী বা জনদরদী হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, তারা বলে ইসলাম কায়েম করবে, অথচ আমাদের নবী (সা.)-এর স্ত্রী বিবি খাদিজা (রা.) নিজেও একজন ব্যবসায়ী ও কর্মমুখী নারী ছিলেন। এই দলটির পূর্বসূরিরা ১৯৭১ সালেও মা-বোনদের অসম্মানিত করেছিল। এদের কাছে দেশের মানুষ বা নারী সমাজ কখনোই নিরাপদ হতে পারে না।

প্রতিপক্ষ দলের নেতার বিতর্কিত মন্তব্যের পর আইডি হ্যাক হওয়ার অজুহাতকে মিথ্যাচার হিসেবে অভিহিত করে তারেক রহমান বলেন, ‘তীব্র সমালোচনার মুখে তারা এখন বলছে আইডি হ্যাক হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এটি অসম্ভব। একটি রাজনৈতিক দলের সিনিয়র নেতা নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে এভাবে মিথ্যা বলছেন। যারা অবলীলায় মিথ্যা বলে, তারা কখনোই দেশের মঙ্গল করতে পারে না। তারা শুধু নিজেদের স্বার্থ বোঝে এবং ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে।

নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি গৃহিণী ও মায়ের কাছে আমরা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেব। এর মাধ্যমে নারীরা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারবেন, কাউকে তাদের মুখাপেক্ষী হতে হবে না। খালেদা জিয়ার সরকার নারী শিক্ষাকে অবৈতনিক করেছিলেন যাতে এই বিশাল জনশক্তি আলোকিত হতে পারে। আমরা সেই ধারা বজায় রেখে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই।

বিগত ১৬ বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত পনেরো-ষোলো বছর বাংলাদেশের মানুষ ভোটের অধিকার পায়নি। মনের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে পারেনি। কেউ কথা বলতে চাইলে তাকে রাতের আঁধারে গুম বা খুন করা হয়েছে। বহু নেতাকর্মী গায়েবি মামলার শিকার হয়েছেন। অবশেষে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে দল-মত নির্বিশেষে মানুষ রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে।

খুলনাকে মৃত শিল্প নগরী হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে শিল্প নগরীকে পুনরায় জীবিত করা হবে। এখানে তরুণদের জন্য আইটি পার্ক এবং নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এছাড়া খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার কৃষক ভাইদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ প্রবর্তনের ঘোষণাও দেন তিনি।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর