সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৩ অপরাহ্ন

নির্বাচনের মতো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ছাত্রদের সম্পৃক্ত করা ঠিক হবে না : নজরুল ইসলাম খান

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১১১ সময় দেখুন
ঢাকা, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ রবিবার দুপুরে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ, এম, এম, নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিককের বলেছেন, নির্বাচনের মতো একটা জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ছাত্রদের সম্পৃক্ত করা ঠিক হবে না। এই কাজে যুক্ত হলে তারা এবং তার প্রতিষ্ঠান বিতর্কিত হতে পারে। সেজন্য তাদেরকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত না করা বেটার হবে।

তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি যে, অল্প বয়সী ছাত্রদের সংসদ নির্বাচনের মতো একটি জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা ঠিক হবে না। এই কাজে যুক্ত হলে তারা এবং তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিতর্কিত হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইনে যাদের কথা উল্লেখ আছে, তাদেরকেই নির্বাচনের কাজে রাখা উচিত। আমরা জানতে পেরেছি যে, ছাত্রদের পর হয়তো স্কাউটদেরও যুক্ত করার কথা বলা হতে পারে। কমিশন আমাদের কথার যৌক্তিকতা স্বীকার করেছেন এবং এ ব্যাপারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী এলাকায় শান্তি কমিটি গঠনের একটি গুঞ্জন আমরা শুনেছি। শান্তি কমিটি শব্দটা আমাদের কাছে অত্যন্ত অপ্রিয়। যদিও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো কমিটি করার সিদ্ধান্ত তারা নেয়নি। এছাড়া আমরা লক্ষ্য করেছি, নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের এলাকার বাইরে অন্য নির্বাচনী এলাকায় কাজ করছেন। আইনে বাধা না থাকলেও, বিশৃঙ্খলা এড়াতে ভোটের অন্তত দুই দিন আগে বহিরাগতদের এলাকা ত্যাগ করা উচিত। কমিশন এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা দেখেছি প্রায় ৫৫ হাজারেরও বেশি স্থানীয় পর্যবেক্ষককে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অনেক অপরিচিত প্রতিষ্ঠানও আছে। আমরা কমিশনকে বলেছি তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেছেন কি না। আমাদের মতে, যাদের সক্ষমতা আছে তাদেরই পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া উচিত। তবে ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক যেন নির্বাচনী কাজে বিঘ্ন না ঘটায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

তিনি বলেন, গত এক-দেড় বছরে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক ভোটার মাইগ্রেশন হয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে। যদিও কমিশন বলছে এই সংখ্যা মাত্র ২-৩ হাজার, কিন্তু আমরা এই তথ্যে সন্তুষ্ট হতে পারিনি। আমাদের ধারণা, তাদের ভুল তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। এমনকি অনেক হোল্ডিং নম্বরে যেখানে ৪-৫ জন থাকার কথা, সেখানে ২০-৩০ জন ভোটার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আমরা আসনভিত্তিক সঠিক তথ্য জানতে চেয়েছি এবং কমিশন তদন্ত করার কথা বলেছেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কমিশনকে সাংবিধানিক ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী এলাকায় ইলেক্টোরাল ইনকয়ারি অ্যান্ড এডজুডিকেশন কমিটি থাকলেও সাধারণ মানুষ বা প্রার্থীরা সে সম্পর্কে তেমন জানেন না। আমরা বলেছি এই কমিটির কার্যক্রম যেন দৃশ্যমান হয়।

এর আগে দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর