বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ন

বাংলাদেশকে কোনো শক্তি বা পরাশক্তি বিরাজনীতিকরণ করতে পারবে না : ড. আব্দুল মঈন খান

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৩১ সময় দেখুন

ঢাকা, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে শোক সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, কোনো শক্তি বা পরাশক্তিই দেশকে বিরাজনীতিকরণ করতে পারবে না। বাংলাদেশের মানুষের রক্তে রয়েছে রাজনীতি। তাদের রক্ত রয়েছে গণতন্ত্র। কাজেই বাংলাদেশকে কোনো শক্তি বা পরাশক্তি বিরাজনীতিকরণ করতে পারবে না, এটা আমি বিশ্বাস করি।

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ২০০৮ সালে দেশে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেটি ছিল একটি সাজানো নির্বাচন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন শক্তির সমন্বয়ে এই নির্বাচনটি আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে এমন একটি শক্তি কাজ করেছিল, যারা বাংলাদেশকে বিরাজনীতিকিকরণ করতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা সফল হয়নি।

 

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আকাশচুম্বী জনপ্রিয়। প্রতিটি নির্বাচনে সবকটি আসনে জয়ী হয়ে জনপ্রিয়তার প্রমাণও দিয়েছেন। এটা ছিলো তার প্রতি জনগণের ভালোবাসা। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ধারক এবং বাহক হিসেবে তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।

 

মঈন খান বলেন, বেগম জিয়া ২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শুধু নির্যাতন-নিপীড়নেরই শিকার হননি, তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেপ্রণোণিত মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু তবুও তিনি সহ্য করে গেছেন। আমি একদিন উনাকে বলেছিলাম- ম্যাডাম আপনার উপর এসব মিথ্যা মামলা নিয়ে আমরা কিছু করতে চাই। তখন তিনি বলেন, না না কিছুই প্রয়োজন নেই। আমি নিয়মের মাধ্যমে প্রমাণ করবো- তাদের এসব কিছু মিথ্যা। আমি নির্দোষ। আর এই প্রমাণ জনগণও দেখবে।

 

তিনি বলেন, অবশেষে চব্বিশের ৫ আগস্ট জয় হয়েছে। যারা বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে, যারা দেশে গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করেছিল, যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বলে নিজেদের দাবি করেও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও নীতির বিরুদ্ধে কাজ করেছিল, তাদের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। প্রমাণ হয়েছে খালেদা জিয়াই সত্য। জনগণের কাছেও স্পষ্ট হয়েছে।

 

ড. মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্থানীয় পর্যায়ে রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা- এটি বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং পরবর্তীতে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের উন্নয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। গ্রামীণ উন্নয়নের একমাত্র মূল কারিগর ছিলেন খালেদা জিয়া। তিনি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য দেশের উন্নয়ন রাজধানী থেকে গ্রামে-গঞ্জে পৌঁছে দিয়েছিলেন। আমরা বিশ্বাস করি, এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র রক্ষা ও উন্নয়নে তারই সন্তান তারেক রহমান বিএনপি’র নেতৃত্বে বাংলাদেশকে বিশ্বের মাঝে একটি উন্নত ও সম্মানজনক জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।

 

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও জাগপার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে এবং জোটের মুখপাত্র ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এস এম শাহাদাতের সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড ডা. সৈয়দ নুরুল ইসলাম, এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান এমএন শাওন সাদেকী ও মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বারিক, ডেমোক্রেটিক লীগের (ডিএল) সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাস ও সহ-সভাপতি মো. মাহবুব আলম, এনডিপির চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হারুন সোহেল ও মহাসচিব জামিল আহমেদ, গণদলের মহাসচিব সৈয়দ আবু সাঈদ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব রেজওয়ান মোর্তজা, জাগপার প্রেসিডিয়াম সদস্য আওলাদ হোসেন শিল্পী প্রমুখ।

 

পরে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর