ক্যাম্পাস প্রতিনিধি-বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ০৩ নভেম্বর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): দীর্ঘ প্রতিজ্ঞা পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ( বাকসুর )গঠনতন্ত্র প্রকাশ করছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হতে যাচ্ছে। আর এই গঠনতন্ত্র প্রকাশ পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা।
গত বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এ খসড়া গঠনতন্ত্র প্রকাশ করা হয় । শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা চাইলে মতামত দিতে পারবে।
খসড়া অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সংসদে মোট পদ ২৫টি। এর মধ্যে সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ পদ ছাড়া অন্য ২৩টি পদে সরাসরি নির্বাচন হবে। পদগুলো হলো সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহকারী সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিযুদ্ধ, বিপ্লব ও গণতন্ত্র বিষয়ক সম্পাদক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, কমন রুম ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক, আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পাদক, সাহিত্য সম্পাদক, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক, ক্রিয়া সম্পাদক, পরিবহন সম্পাদক, সমাজসেবা সম্পাদক এবং নির্বাহী কমিটির (১১) জন সদস্য।
সংরক্ষিত পদে পদাধিকারবলে সভাপতি হবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের মধ্য থেকে উপাচার্যের মনোনয়ন অনুযায়ী নির্বাচিত হবেন।
এ ছাড়া হল সংসদে মোট পদ রয়েছে ১৫টি। সেগুলো হলো–সভাপতি, কোষাধ্যক্ষ, সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সহ-সাধারণ সম্পাদক, সাহিত্য ও সম্পাদক, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক, পাঠকক্ষ সম্পাদক, ইনডোর গেমস সম্পাদক, আউটডোর ও ক্রীড়া সম্পাদক, সমাজসেবা সম্পাদক এবং সংসদ কর্তৃক নির্বাচিত চার (৪) জন নির্বাহী সদস্য।
এর মধ্যে ১৩টি পদে নির্বাচন হবে এবং অন্য দুটি পদের মধ্যে হলের প্রভোস্ট পদাধিকারবলে সভাপতি হবে এবং হলের আবাসিক শিক্ষকদের মধ্য থেকে কোষাধ্যক্ষ মনোনীত করবেন।
কিন্তু দীর্ঘ আপেক্ষার পরে যখন বাকসু নির্বাচনের আবাস মিলছে ঠিক তখনই বাকসুর গঠন তন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেক শিক্ষার্থী। তাদের দাবি তাদের সম্পূর্ন মতামত প্রতিফলিত হয় নাই।
মৃত্তিকা বিজ্ঞান ও পরিবেশ বিভাগের ভূমিকা সরকার বলছেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের অনেক গুলো প্রত্যশা ছিলো। তার মধ্যে যে সম্পাদিক পোষ্ট ছিলো। আপনি দেখতে পারবেন যে অনেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলরেডি আলাপ হচ্ছে যে আইন বিষয়ে সম্পাদক নেই।
তিনি আরো বলেন,, আমি ব্যক্তিগত জায়গা থেকে মনে করি আমাদের যে গঠনতন্ত্র প্রনয়ন করছে সেখানে ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক বা ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক নেই। যেটা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় স্বাত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দেখেছি। এই পদটা কিন্তু নেই। আরো গুরুত্বপূর্ণ যে আলাপটা আমার মনে হয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক। আমার আমাদের মেডিকেল সেন্টার আবস্থা জানি এখানে নাপা ছাড়া অন্য কোন ঔষধ পাওয়া যায় না। এইটাকে যদি আরো ইঙ্কজেট করতে হয় এবং একটাকে যদি আধুনিকায়ন করতে হয় তাহলে এখন অবশ্যই একজন স্বাস্থ্যবিষক সম্পাদক লাগবে। এইটা কোন ভাবেই বাদ দিবার মতো বিষয়ে না।
মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আহম্মদউল্লাহ বলেন ,, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিটি কেন্দ্র কেন্দ্র এবং কর্না কর্না শিক্ষার্থীদের মাঝে এই ছাত্র সংসদ র্নিবাচন এবং সংবিধি নিয়ে আলোচনা চলছে।সেখানে কিছুটা বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখছি শিক্ষার্থীদের মাঝে। আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসন থেকে যে সংবিধিটা প্রকাশ করছেন তাতে কিন্তু ফাকফোক থেকে গেছে। যেটা কেন্দ্রীয় যে ছাত্র সংসদ রয়েছে যেটা শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ন প্রতিনিধিত্ব করছে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে আমাদের কে জানানো হইছে ৫ই নভেম্বর ২০২৫ সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে বসা হবে। এবং এই খসড়া যত ধরনের প্রশ্ন থাকবে বা যত ধরনের জিগ্যেসা থাকবে সেটা তারা সমাধান করবেন।
হাসান বলেন,, আমার শিক্ষার্থীদের মাঝে একটা প্রশ্ন চলছে যে এই সংসদটি কি সত্যিকারে একটা সামাজিক সংসদ হবে নাকি সত্যিকারে একটা ছাত্র সংসব হবে। সেটা নির্ভর করে আমাদের সকলের স্বস্তুর্ফূত অংশ গ্রহনের মাধ্যমে।
আবার বলেন,, আমাদের মাননীয় ভিসি স্যার সাধারণ শিক্ষার্থী এবং সকল ধরনের সমাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক সংগঠন সাথে ৫ তারিখ এ নিয়ে বসার জন্য একটা তারিখ দিয়েছেন। আমার এই নিয়ে ৫ তারিখ বসে চাই।
মাহমুদ রহমান বলেন,, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাচ অধ্যয় এবং ৩২ ধারার সম্বলিত একটা গঠনতন্ত্র প্রকাশ পেয়েছে। এখন আমারা মনে করছি আমাদের সম্পূর্ন মতামতের প্রতিফলন হয়নি।
আরো বলেন,, আমার মনে করি যে বিশ্ববিদ্যালয় মূল সংকটগুলো যেমন ক্যাফেটিরিয়ার খাবার নিম্ন মানের, পরিবহণ সংকট, ক্লাসরুম সংকট, হলের সংকট সহ আরো অনেক যে সংকটগুলোকে সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিফলন ও সমাধান করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উপর একজন করে সম্পাদক বা দায়িত্বশীল লাগবে পদ লাগবে।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, আপনার জানেন যে আমাদের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ গঠনতন্ত্র প্রনয়ন করা হইছে। সেই গঠনতন্ত্র নিয়ে নানান তর্কবিতর্ক আছে। সেখানে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগামী ৫ তারিখ একটা আলোচনা সভা হবে।
গঠনতন্ত্র নিয়ে যে তর্কবিতর্ক আছে সেটা নিয়ে সকল সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে সমষ্টিক মতামত নেওয়া উচিত। গঠনতন্ত্র প্রকাশের মাধ্যমে বাকসু নির্বচনের এক ধাপ এগিয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের প্রত্যশা একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন।
Leave a Reply