শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৯ অপরাহ্ন

জুলাই সনদ এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না করলে বর্তমান সরকার ৫ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না : নাহিদ ইসলাম

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬
  • ২৬ সময় দেখুন

সিলেট, ২৫ জুলাই ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সিলেটে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণভোটে দেওয়া জনগণের রায়, জুলাই সনদ এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না করলে বর্তমান সরকার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবে না। জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করলে সরকারকে রাজনৈতিকভাবে এর মূল্য দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে এবং গণভোটে জনগণ যে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে তা কার্যকর না করে, তাহলে তাদের পক্ষে পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করা সম্ভব হবে না।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তিনি নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করতে চান, নাকি জনগণের রায় উপেক্ষা করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্ষমতাচ্যুত শাসকদের পরিণতির পথে হাঁটতে চান—সেই সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে।

ভারতে সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তার দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারগুলো ছাত্র-জনতার প্রতি সংবেদনশীল হলেও বাংলাদেশের সরকার উল্টো পথে হাঁটছে।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপির ৩১ দফার প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পক্ষে মত দিলেও সরকার সেই গণরায়কে উপেক্ষা করছে। ফলে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও পাওয়া যাচ্ছে না।

সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনে সিদ্ধান্ত হয়েছিল শুধু সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন সম্ভব নয়; এজন্য একটি সংস্কার পরিষদ বা গণপরিষদ প্রয়োজন। তবে নির্বাচনের পর বিএনপি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে কেবল সংবিধান সংশোধনের কথা বলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল হয়েও তারা নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামোয় কোনো সংস্কার আনেনি এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ন্যূনতম ঐকমত্যও মানেনি। জুলাই আন্দোলন ও হাজারো মানুষের আত্মত্যাগ ভুলে গেলে এর রাজনৈতিক পরিণতি বিএনপি ও তারেক রহমানের সরকারকেই বহন করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকায় গ্যাস সংকট, জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং এলপিজির দাম বাড়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বাজেটে মধ্যবিত্তের ওপর নতুন করে করের বোঝা চাপানো হয়েছে। সংস্কার না হওয়ায় দেশের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও মিলছে না।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে অথবা বর্তমান কমিশনারদের পদত্যাগ করতে হবে। নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে দেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে দেশে আরেকটি গণআন্দোলন অনিবার্য হয়ে উঠবে। ঢাকা মহাসমাবেশের পরও দাবি বাস্তবায়ন না হলে সরকার পতনের একদফা আন্দোলন শুরু হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

রাশেদ প্রধান অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় আসার পাঁচ মাস পরও সরকার সিলেট অঞ্চলকে অবহেলা করে রেখেছে। তার ভাষ্য, যারা প্রথম পাঁচ মাসে দৃশ্যমান কাজ দেখাতে পারে না, তারা আগামী পাঁচ বছরেও তা পারবে না।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে তার বিচার দাবি করবে। পাশাপাশি সীমান্তে ভারতের পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করায় সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের জনগণকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ প্রধান দাবি করেন, শেখ হাসিনা নিজেই ভারতে আশ্রয় চেয়েছিলেন। একই সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়া এবং টিপাইমুখ বাঁধ ইস্যুতে ভারতীয় নীতির সমালোচনা করেন।

সমাবেশে এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া (ফুয়াদ) বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে গেছে। তার দাবি, আওয়ামী লীগের রাজনীতির আর কোনো স্থান বাংলাদেশে নেই।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বীর বিক্রম। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ ছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা সমাবেশে বক্তব্য দেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর