বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৭:২৩ অপরাহ্ন

পবিপ্রবিতে আধুনিক বাসের উদ্বোধন: স্বপ্নযাত্রার এক নতুন সহযাত্রী

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৫ মে, ২০২৫
  • ১৫১ সময় দেখুন

মোঃ মিজানুর রহমান, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-পটুয়াখালী, ১৫ মে ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): জ্ঞানযাত্রার পথ দীর্ঘ ও বহুবর্ণিল। কোনো দিন তা রৌদ্রস্নাত, আবার কোনো দিন মেঘলা—কখনো কাঁটায় ভরা, কখনো মসৃণ। এই দীর্ঘপথেই হাঁটে আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম—বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আর তাদের এই চলার পথকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময়, নিরাপদ ও সময়োপযোগী করে তুলতে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) যুক্ত হলো এক নতুন প্রাপ্তি—৫০ সিটবিশিষ্ট একটি আধুনিক, আরামদায়ক বাস।

 

১৫ মে, বুধবার, বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন মাত্তিকা  সহকারী অধ্যাপক  ড, এবিএম সাইফুল ইসলাম।,  পবিপ্রবির মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই বাসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান। তিনি বলেন, “এই বাস শুধুমাত্র একটি যানবাহন নয়, বরং শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের যাত্রার এক নির্ভরযোগ্য সহচর। এটি তাদের সময় সাশ্রয় করবে, চলাচল করবে সহজতর এবং শিক্ষাজীবনে যোগ করবে স্বস্তি ও অনুপ্রেরণা। শিক্ষার্থীদের জন্য এরকম একটি উপহার আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি দেশের কর্পোরেট দুনিয়ার দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন পবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবদুল লতিফ। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, এই বাস শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে শুধু আরামই নয়, বরং নিরাপত্তার নিশ্চয়তাও দেবে।”

 

এই বাসটি উপহার দিয়েছেন দেশের অন্যতম ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান আইএফআইসি ব্যাংক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের সম্মানিত চেয়ারম্যান মেহমুদ হুসাইন। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের স্বপ্নপূরণের পথে সহায়তা করা আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ। পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা একদিন দেশ ও জাতির নেতৃত্ব দেবে—এই আস্থাতেই আমরা এই ক্ষুদ্র প্রয়াস গ্রহণ করেছি। আশা করি, এটি শুধু একটি যানবাহন নয়, বরং একটি প্রেরণার প্রতীক হয়ে থাকবে।”

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, “এই বাসটি শুধুই ধাতব কাঠামো নয়—এটি শিক্ষার্থীদের সময় সঞ্চয়ের প্রতীক, নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি ভালোবাসার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। পবিপ্রবি আজ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। আমি আইএফআইসি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং তাদের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি।”

 

তিনি আরও বলেন, “জীবনটাই এক বড় চ্যালেঞ্জ। আর বিশ্ববিদ্যালয় তার ছাত্রদের সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত করে। আজকের এই উদ্যোগ তারই এক অংশ।”শিক্ষার্থীবান্ধব এই  বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ গঠনে আমাদের দায়বদ্ধতা থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মনসুর মুস্তাফা, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলামসহ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা। পবিপ্রবির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. ইখতিয়ার উদ্দিন, ইএসডিএম অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহসীন হোসেন খান, আইন অনুষদের ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ জামাল হোসেন, পোস্ট গ্রাজুয়েট স্ট্যাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, এফবিএ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সুজাহাঙ্গীর কবির সরকার, জনসংযোগ বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর মো. মাহফুজুর রহমান সবুজ, সহকারী রেজিস্ট্রার এম. কে. জামানসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং একঝাঁক উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থী।

 

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী মারসিফুল আলম রিমন বলেন, “এই বাস আমাদের জীবনে শুধু যাতায়াতের একটি মাধ্যম নয়, বরং এটি আমাদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের প্রতিচ্ছবি। প্রতিদিনের ক্লান্তিকর যাত্রা এখন আর কষ্টকর হবে না। আমাদের মনে হচ্ছে—আমাদের কথা কেউ ভাবছে, আমাদের জন্য কেউ কাজ করছে। এই উপলব্ধি আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।”

 

পরিশেষে, এই বাস কেবল বাহ্যিক সুবিধার প্রতীক নয়, বরং এর ভেতরে লুকিয়ে আছে আন্তরিকতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের এক অনুপম নিদর্শন। পটুয়াখালীর মতো একটি প্রান্তিক অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য অনুকরণীয়। শিক্ষা ও অর্থনীতির এই সম্মিলিত প্রয়াস বাংলাদেশের উন্নয়নধারাকে করবে আরও মানবিক, আরও সুসংহত।

 

পবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা এখন এই নতুন সহযাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাবে তাদের স্বপ্নের গন্তব্যে—বাসের জানালা দিয়ে দূরের আকাশে চোখ রেখে, এক নতুন ভবিষ্যতের প্রত্যাশায়।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর