শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ন

বাইন্যান্সের ৬৩০ কোটি ডলার ক্রিপ্টো চুরির নেপথ্যে ভুয়া ইন্টারভিউ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৩৭ সময় দেখুন

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বাইন্যান্স থেকে রেকর্ড ৬৩০ কোটি ডলার চুরির ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, সাইবার হ্যাকাররা ভুয়া চাকরির ইন্টারভিউ এবং একটি কম্প্রোমাইজড বা ক্ষতিগ্রস্ত অভ্যন্তরীণ এআই টুল ব্যবহার করে এই বিশাল অঙ্কের ক্রিপ্টো হ্যাকিং আক্রমণ পরিচালনা করে।

সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও ভুয়া চাকরির ফাঁদ

বাইন্যান্সের প্রকাশিত প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যাকাররা অত্যন্ত জটিল এবং বহুধাপ বিশিষ্ট একটি অভিযানের মাধ্যমে তাদের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে। আক্রমণকারীরা মূলত প্রতিষ্ঠানটির প্রকৌশলীদের লক্ষ্য করে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রয়োগ করেছিল। এর অংশ হিসেবে একজন প্রকৌশলীকে প্রথমে একটি বৈধ চাকরি খোঁজার প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হয় এবং পরে ভুয়া কোম্পানির প্রতিনিধি সেজে একটি অনলাইন সাক্ষাৎকারের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হ্যাকাররা প্রকৌশলীদের কম্পিউটারে ক্ষতিকারক সফটওয়্যার ডাউনলোড করাতে সক্ষম হয়। এই মালওয়্যার ব্যবহার করেই তারা বাইন্যান্সের ডিজিটাল ওয়ালেট থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়। বাইন্যান্স এই ঘটনাকে অত্যন্ত জটিল ও গুরুতর নিরাপত্তা লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং তাদের ব্যবহারকারীদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে।

তদন্তে এফবিআই ও উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধ তদন্তকারী সংস্থা এফবিআই এবং সিক্রেট সার্ভিস বর্তমানে চোরদের সনাক্ত করা ও চুরি হওয়া ক্রিপ্টো খুঁজে বের করতে বাইন্যান্সকে সহায়তা করছে। একাধিক সাইবার বিশ্লেষক এবং বিশেষজ্ঞ সংস্থার মতে, এই অভিনব ও ভয়াবহ হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের হাত থাকার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

  • পূর্বের ইতিহাস২০২৫ সালে বাইবিট ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ থেকে ১৫০ কোটি ডলার হ্যাকিংয়ের ঘটনার পেছনেও উত্তর কোরিয়ার কুখ্যাত ল্যাজারাস গ্রুপ জড়িত ছিল বলে মনে করা হয়।
  • বাইন্যান্সের অবস্থানএফবিআইয়ের সাম্প্রতিক তথ্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করার বিষয়টি নির্দেশ করে। প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণের জন্য তহবিল প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করছে।

অভিযোগ অস্বীকার উত্তর কোরিয়ার

অন্যদিকে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তা এবং দেশের সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং এই হ্যাকিংয়ের সমস্ত অভিযোগ কড়া ভাষায় অস্বীকার করেছেন। তিনি এই জাতীয় দাবিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরিকল্পিত অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন অভিযোগ বলে অভিহিত করেছেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর