সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৬ অপরাহ্ন

মাঝ আকাশে অকেজো উড়োজাহাজ ফিরিয়ে আনলেন যে দুই পাইলট

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২৫ সময় দেখুন

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ০২ নভেম্বর ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওমানের আকাশসীমায় উড়ন্ত অবস্থায় উড়োজাহাজটির পাইলট স্মিথ মছারের ওপর অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। হামলাকারী ছিলেন ওই বিমানেরই সহ-পাইলট, যিনি ওমানের নাগরিক। ঘটনার সময় বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। এ ঘটনায় ভারতীয় পাইলট স্মিথ মছারের সাহসিকতা দেশে–বিদেশে প্রশংসায় ভেসেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অসীম সাহসিকতা দেখানোয় তাঁদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

ককপিটে রাখা কুঠারের মতো একটি সরঞ্জাম বা ‘ক্র্যাশ এক্স’ ব্যবহার করে সহ-পাইলট স্মিথ মছারের ওপর আক্রমণ করেন। এই আকস্মিক হামলায় উড়োজাহাজটি মাত্র ৩০ সেকেন্ডের ব্যবধানে ১৬ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলাকারী যাত্রীসহ বিমানটি বিধ্বস্ত করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, যা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার ছকে অনুপ্রাণিত ছিল। বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজটি মাঝ আকাশে থাকা অবস্থায় সহ–পাইলট ‘ক্র্যাশ এক্স’ (ককপিটে রাখা কুঠারের মতো সরঞ্জাম) দিয়ে হঠাৎ স্মিথ মছারের ওপর হামলা করেন। ‘মনে হচ্ছিল উড়োজাহাজ না, রোলারকোস্টার, হুড়মুড়িয়ে নিচে নামছিল’। পাইলট, মিস্ত্রি, দন্তচিকিৎসক—কার কার চেষ্টায় রক্ষা পেল ইসরায়েলগামী উড়োজাহাজটি।

আক্রান্ত পাইলট স্মিথ মছার গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও নিজের সাহসিকতা বজায় রেখেছিলেন।

তিনি ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হলে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তিনি ‘কট্টর ইসলামপন্থী’ মতাদর্শে বিশ্বাসী।

সে সময় যাত্রীর আসনে থাকা অন্য দুই পাইলট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসেন। তারা হলেন ফিজির হেনসন স্টিভেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার রোয়ান টুথ। তাদের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে বিমানটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় এবং পরে সৌদি আরবের একটি বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন জানিয়েছেন, বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করলে তিনি ককপিটের দিকে ছুটে যান। তিনি হামলাকারীকে টেনে বের করে আনেন এবং স্টিয়ারিং কন্ট্রোল বা ইয়োক চেপে ধরে বিমানটিকে পুনরায় সোজা করার চেষ্টা করেন। এভাবেই চরম বিপর্যয়ের হাত থেকে বেঁচে যান যাত্রীরা।

টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পরবর্তী সময়ে সৌদি আরব থেকে বিমানটি ফিরিয়ে আনার দায়িত্বও পালন করেছেন ছুটিতে থাকা হেনসন ও রোয়ান। হেনসন এর আগে ফিজি এয়ারওয়েজে কাজ করেছেন এবং রোয়ান ২০২৩ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার এয়ারলিংকে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আহত পাইলট স্মিথ মছার বর্তমানে আবুধাবির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি জানান, প্রথম আঘাত পাওয়ার পর তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন উড়োজাহাজের কাঠামোয় বড় কোনো কারিগরি ত্রুটি হয়েছে, কিন্তু মুহূর্তেই হামলার বিষয়টি বুঝতে পারেন। প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ হেনসন, রোয়ান ও সংশ্লিষ্ট ক্রুদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেছেন। মাঝ আকাশে উড়োজাহাজের ককপিটে মহাহট্টগোল।

হামলাকারী পাইলটের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট কিছু জানানো না হলেও, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে তাকে কট্টরপন্থী মতাদর্শের অনুসারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গুরুতর জখম হওয়া পাইলট স্মিথ মছারকে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননায় ভূষিত করেছে। সুস্থ হতে তার আরও দুই মাস সময়ের প্রয়োজন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এবার ওই দুই পাইলটের নামও প্রকাশ্যে এসেছে। হাতে ব্যান্ডেজ আর মাথার পেছনের দিকে সেলাই নিয়ে স্মিথ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে বলেন, পুরোপুরি সুস্থ হতে তাঁর মাস দুয়েক সময় লাগতে পারে। যদিও তাঁর এমন কর্মকাণ্ডের পেছনে ঠিক কী উদ্দেশ্য ছিল, তা জানা যায়নি।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর