শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

নিভৃত পল্লীতে দূর্ধর্ষ ডাকাতি : মোটরসাইকেল যোগে দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করেন ডাকাতদল

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৪ সময় দেখুন

আব্দুল্লাহীল কাফী মাসুম, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-রংপুর, ২৭ আগষ্ট ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ১২ নং মিলনপুর ইউনিয়নের সন্তোষপুর বকঠোঁটা গ্রামে মো. ফারুক মিয়ার বাড়িতে ২৭ শে আগস্ট রাত ১২:৩০ মি. এক দূর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদল আশেপাশের গ্রামের বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনামতে, ১০/১২ জনের ডাকাতদল দেশীয় অস্ত্র লাঠি-ছুরি নিয়ে ৫/৬ টি মোটরসাইকেল যোগে ফারুক মিয়ার বাড়ির গেটে এসে প্রথমে ভাংচুর চালায়। পরে কয়েকজন বাড়ির মালিকের নাম ধরে ডাকাডাকি করে ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এ সময়ে বাহিরের জানালা ভাংচুর করে ডাকাতদল। বাড়ির মেইনগেট ভাংগার চেস্টা করে ভাংগতে ব্যর্থ হয়ে প্রাচীর টপকে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে এলোপাথারী মারপিট শুরু করে। এক পর্যায়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে ডাকাতদল সকল আসবাবপত্র ভাংচুর ও তল্লাশী চালায়।
ফারুক মিয়ার ছেলে আফলাতুল ইসলাম ঘরে না থাকায় তাঁর স্ত্রী মোছা. শাকিলা খাতুন চার মাসের শিশু সন্তান নিয়ে ঘরের ভেতরে ভয়ে জড়সড় হয়ে এক কোণায় বসে ছিলেন। সেই সুযোগে শাকিলাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ওয়্যারড্রবের ড্রয়ারে থাকা কলা ও ধান বিক্রির নগদ দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা ও দুই লক্ষ বিশ হাজার টাকার স্বর্ণালঙ্কার সহ প্রায় চার/ পাঁচ লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতদল। প্রত্যক্ষদর্শী পাশের বাড়ির এরশাদ মিয়া ডাকাতির ঘটনার সময় উপস্থিত থাকলেও অস্ত্রের ভয়ে সামনে আসতে সাহস করেননি, তিনি জানালা দিয়ে সকল কর্মকান্ড দেখেছেন বলে জানালেন।

এদিকে ফারুক মিয়ার বড় ছেলে মো. নুরুন্নবী মিয়া আজ সকালে বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় ১০/১২ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করেন।
ডাকাতিকালে বাদশা মিয়ার স্ত্রী মোছা. জুলেখা বেগম ডাকাতদলের কয়েকজনকে চিনে ফেলেন।

নিধিরামপুর গ্রামের মো. মাসুম বিল্লাহ ও সুমন মিয়া, দুধিয়াবাড়ি গ্রামের সাজেদুল ইসলাম এর নাম উল্লেখ করে মিঠাপুকুর থানায় অভিযোগ করেন। আজ দুপুর ২:০০ টা পর্যন্ত কোন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ কিংবা স্থানীয় সরকার এর গ্রাম পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ দিয়ে সরেজমিনে সকল প্রমাণপত্র এ প্রতিবেদককে ঘুরে ঘুরে দেখিয়ছেন। অভিযোগ রয়েছে, সন্ত্রাসী ডাকাতদল বিভিন্ন মোবাইল নাম্বার থেকে ডাকাতির ঘটনা কাউকে না জানানোর হুমকী প্রদান করছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ভট্টজানপুরের হারুণ অর রশিদ জানান, হৈচৈ শুনে গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে ফারুক মিয়ার বাড়িতে গেলে ডাকাতদলের কাউকে না পেয়ে ডাকাতির আলামত ও বিবরণ শুনে আসামীদের নাম নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য যে, ফারুক মিয়া ২০০৬ সালে নিজ গ্রাম পীরগঞ্জ উপজেলার চৈত্রকোল ইউনিয়নের জানপুর থেকে মিঠাপুকুরের সন্তোষপুর বকঠোঁটা গ্রামে জমি ক্রয় করে বসবাস শুরু করেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর