শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন

জামায়াতে ইসলামী ফেরেশতাদের সংগঠন নয়-মানুষের সংগঠন, ভুল-ত্রুটি হতেই পারে : জামায়াত আমির

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬
  • ২২ সময় দেখুন

ঢাকা, ২৪ জুলাই ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলার ষান্মাসিক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ফেরেশতাদের সংগঠন নয়, মানুষের সংগঠন। ভুল-ত্রুটি হতেই পারে।

জামায়াতের আমির আরও বলেন, দলের নেতাকর্মীদের ভুল-ত্রুটি হতে পারে, তবে গুরুতর অন্যায় বা অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদেরও ভুল, দোষ ও অপরাধ হতে পারে। কেউ যদি আমাদের কোনো অন্যায় দেখেন, তা ধরিয়ে দিন। আমরা সংশোধনের চেষ্টা করব।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনার গায়ে যদি সাদা কাপড় থাকে, তাহলে আরও বেশি যত্নশীল হতে হবে। খুব সতর্ক থাকতে হবে। নৈতিকতার প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীতে কোনো ছাড় নেই।’

তিনি বলেন, সহনীয় মাত্রার কোনো বিচ্যুতি হলে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে এবং দায়িত্বে ফেরানোরও চেষ্টা করা হবে। তবে অপরাধের মাত্রা গুরুতর হলে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকবে না।

গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। পরিবর্তনের জন্য গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, সরকার তা পাশ কাটিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো দেশ পরিচালনা করছে। একই নির্বাচনের একটি রায় গ্রহণ করে অন্যটি প্রত্যাখ্যান করা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালের লগি-বৈঠার ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শক্তির গণহত্যার রাজনীতি শুরু হয়। এরপর পিলখানা হত্যাকাণ্ড, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে সহিংসতা, হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের হত্যাকাণ্ড এবং জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ একই ধারাবাহিকতার অংশ।

জামায়াত আমির দাবি করেন, দল নিষিদ্ধ হওয়ার আগেই তারা ছাত্র আন্দোলনের প্রতি নৈতিক সমর্থন জানিয়েছিলেন। পরে দল নিষিদ্ধ হলে নেতাকর্মীদের রাজপথে নামার আহ্বান জানানো হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের ঘটনাকালে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আহত ও পঙ্গুদের যথাযথভাবে পুনর্বাসন এবং শহীদ পরিবারের দায়িত্ব রাষ্ট্রের নেওয়া উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের রায়কে অস্বীকার করার প্রতিবাদেই তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন। সংসদে সমাধান না হলে জনগণই গণতান্ত্রিক উপায়ে তার সমাধান করবে। জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে কোনো সংশোধন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে সরকারের আরও আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন।

প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। একইভাবে অন্যদেরও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। সীমান্তে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে তার প্রভাব উভয় দেশকেই বহন করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে জামায়াত আমির বলেন, সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন—এটাই জামায়াতের বিশ্বাস। নেতা ও নীতির সংশোধনের মাধ্যমেই সমাজে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সম্মেলনে ঢাকা জেলা আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, মো. মোবারক হোসাইন এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঢাকা জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো. আফজাল হোসাইন। এছাড়া সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং ঢাকা জেলার প্রায় সব পুরুষ ও মহিলা রুকন উপস্থিত ছিলেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর