সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন

পাকিস্তানের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিও নিউজের সম্প্রচার লাইসেন্স ১৫ দিনের জন্য স্থগিত

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ২৭ সময় দেখুন

ঢাকা, ২৭ জুন ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ রোববার (২৮ জুন) রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাকিস্তানের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিও নিউজের সম্প্রচার লাইসেন্স ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। মহররম উপলক্ষে প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানে ‘আপত্তিকর’ ধর্মীয় দৃশ্য প্রচারের অভিযোগে দেশটির গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই পদক্ষেপ নেয়। তবে সম্প্রচারিত ওই কন্টেন্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছে জিও নিউজ।

পাকিস্তানের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভিযোগ, গত ২৬ জুন প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে জিও নিউজ এমন কিছু ‘ধর্মীয় দৃশ্যায়ন’ সম্প্রচার করেছে, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে, ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।

তবে এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে রোববার (২৮ জুন) এক বিবৃতিতে জিও নিউজ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিষয়বস্তু অনিচ্ছাকৃতভাবে সম্প্রচারিত হয়েছে। এটি চ্যানেলটির সম্পাদকীয় অবস্থান বা বিশ্বাসের প্রতিফলন নয়।

পাকিস্তানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং ইসলামের অন্যান্য সম্মানিত ব্যক্তিত্বের চিত্র বা প্রতিকৃতি প্রদর্শন অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। অতীতে পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রকাশিত ব্যঙ্গচিত্রকে কেন্দ্র করে দেশটিতে ব্যাপক বিক্ষোভও হয়েছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পাকিস্তানে ধর্মীয় বিরোধ খুব দ্রুত জনরোষের সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে মহররম উপলক্ষে দেশটির কর্তৃপক্ষ সাধারণত অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

পাকিস্তানের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিও নিউজ জানিয়েছে, বিতর্কিত বিষয়বস্তু তাদের সব প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। চ্যানেলটির দাবি, সম্প্রচারিত ফুটেজে ইরাক ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু মানুষের পালন করা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান দেখানো হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় রীতিনীতি তুলে ধরা, কোনও ধর্মীয় মতাদর্শের প্রতি সমর্থন জানানো নয়।

পাকিস্তানের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলেছে, সম্পাদকীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে ব্যর্থ হয়েছে জিও নিউজ। তাই চ্যানেলটিকে অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাউন্সিল অব কমপ্লেইন্টসের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে। দেশটিতে বিভিন্ন সময় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর বিরুদ্ধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যবস্থা, সম্প্রচার স্থগিত এবং সম্প্রচার-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

২০২৬ সালের বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩তম বলে জানিয়েছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর