শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন

সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে বাস্তবমুখী নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে : সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
  • ৩৬ সময় দেখুন

চট্টগ্রাম, ১৮ জুন ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি প্যারেড গ্রাউন্ডে ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশনপ্রাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বপরিসরেও অবদান রাখছে। সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে বাস্তবমুখী নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সেনাপ্রধান বলেন, মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে দক্ষ, আধুনিক ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম। আর এ বাহিনীর নেতৃত্বের দায়িত্ব মূলত অফিসারদের ওপরই ন্যস্ত।

ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ, দক্ষ, চৌকস ও মেধাবী সেনা কর্মকর্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এখান থেকে কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি বলেন, পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় অফিসার ক্যাডেটদের জন্য আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়নের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।

সেনাপ্রধান নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, শপথগ্রহণের মধ্যদিয়ে তাদের ওপর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। এই দায়িত্ব পালনে সততা, শৃঙ্খলা, কর্তব্যবোধ ও পেশাদারত্বের পরিচয় দিতে হবে।

দীর্ঘ তিন বছরের প্রশিক্ষণ শেষে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্স থেকে ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। তাদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। এছাড়া ফিলিস্তিন, তানজানিয়া, জাম্বিয়া ও মালদ্বীপের সাতজন বিদেশি ক্যাডেটও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।

অনুষ্ঠানে ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকস ক্যাডেট হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ এবং সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন। অন্যদিকে তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর সর্বশ্রেষ্ঠ বিদেশি ক্যাডেট হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ লাভ করেন।

কুচকাওয়াজ শেষে সেনাপ্রধান প্রশিক্ষণ সমাপনকারী ক্যাডেটদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন। পরে নবীন কর্মকর্তাদের মা-বাবা ও অভিভাবকেরা তাদের র‍্যাঙ্ক-ব্যাজ পরিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানের পর সেনাপ্রধান বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে নবগঠিত ‘দ্বিতীয় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি নবনির্মিত সিএমএইচ ভাটিয়ারি, বিএমএ পার্ক, সুইমিং পুল এবং এমইএস অফিস কমপ্লেক্স প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি, অভিভাবক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর