শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০১:৫৪ পূর্বাহ্ন

একটা নতুন মডেলের দিকে গিয়েছি, সেটা হচ্ছে- বিনিয়োগ থেকে উৎপাদন : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
  • ৪২ সময় দেখুন

ঢাকা, ১৮ জুন ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলায়তনে রিসার্চ এন্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট আয়োজিত বাজেট আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ‘করের হার বাড়িয়ে নয়, বরং উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের পরিধি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি করা উচিত। সরকার সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নীতি ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।’

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আমরা একটা নতুন মডেলের দিকে গিয়েছি। সেটা হচ্ছে- বিনিয়োগ থেকে উৎপাদন। উৎপাদন থেকে কর্মসংস্থান। কর্মসংস্থান থেকে করের হার না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ বৃদ্ধি। তার মানে হচ্ছে পুরনো মডেল থেকে এটার একটা বড় রকমের পার্থক্য আছে। আগে বিনিয়োগ ঋণাত্মক হয়েছে এবং বিনিয়োগ প্রথম দিকে স্থবির হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা উৎপাদনমুখী শিল্পায়নের দিকে যাচ্ছি, যাতে করে যে নিউ নরমাল পরিস্থিতি আসছে, অনিশ্চয়তা আসছে সেটা মোকাবিলা করতে পারি। কারণ কোভিডের বিষয়ে আপনি জানতেন না। মধ্যপ্রাচ্যের যে সংকট তাও আপনারা জানতেন না। বাংলাদেশের যে সাপ্লাই চেইন ডিস্রাপশন হতে পারে বা অনিশ্চয়তাকারী পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্যে নিজস্ব দেশোপযোগী কায়দায় আমরা এটা করছি। কেন করছি কারণ আমাদের জনগণ আমাদেরকে আস্থায় রেখেছে। আমাদের প্রত্যেকটা কৌশল হচ্ছে দেশোপযোগী।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আরো বলেন, জ্বালানির ক্ষেত্রে যদি আমাদের চিন্তার কথা বলি তাহলে আমরা যে সংস্কার করেছি সেটার মধ্যে পাঁচটা অংশ আছে। প্রথম অংশ হচ্ছে- ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী তৈরি করতে হবে। যার ফলে আমাদেরকে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য এবং আণবিক খাতে যেতে হবে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে- জ্বালানিকে এফোরডেবল করা হবে। কিভাবে আমরা মানুষের ক্রয় সীমার মধ্যে জ্বালানি রাখতে পারি। এটা হচ্ছে দ্বিতীয় চিন্তা। এ নিয়ে অনেকগুলো কাজ হচ্ছে আপনারা ভবিষ্যতে দেখতে পাবেন।

তিনি আরো বলেন, তৃতীয় হচ্ছে যে আমাদেরকে প্রতিটি কারখানায় এক এক ধরনের প্রয়োজনীয়তা আছে। যেমন কোন কারখানায় গ্যাস না থাকলে সেখানে উৎপাদন হবে না। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করেছি যে অতীতে কোন রকমের গ্যাস উত্তোলন অনুসন্ধান কিছুই করা হয়নি। আমরা গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলন দেশের ভেতরে এবং সমুদ্রে ব্যবস্থা করার জন্য চেষ্টা করছি। চার হচ্ছে, আমরা যদি সৌর বিদ্যুতের দিকে যেতে চাই বা নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের দিকে যেতে চাই তাহলে এইখানেই উৎপাদনটা করতে হবে। সে জন্য আমরা নানা ধরনের উদ্যোগ এই বাজেটেই নিয়েছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফের সঞ্চালনায় সম্মানিয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‌্যাপিড) এর চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক।

প্যানেল আলোচনায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের উপাচার্য ড. রুবানা হক, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, বাংলাদেশ গার্মেন্টস ওয়ার্কারস সলিডারিটির সভাপতি তাসলিমা আখতার।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর