বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪২ সময় দেখুন

মোঃ মিজানুর রহমান, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি-পটুয়াখালী, ০১ এপ্রিল ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গজ, ব্যান্ডেজ, ক্যানোলা, মাইক্রোপোর, হেক্সসল, সিরিঞ্জ ও স্যালাইন সেটের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণ হাসপাতাল থেকে সরবরাহ না পাওয়ায় রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয় ও দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

সম্প্রতি সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ভর্তি রোগীদের জন্য শুধুমাত্র স্যালাইন পাওয়া গেলেও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুদ নেই। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের পড়তে হচ্ছে চরম বিপাকে।

হাসপাতালে ভর্তি শ্রীরামপুর ইউনিয়নের সোহেল (২৫) বলেন, “সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে যদি সব কিছু বাইরে থেকে কিনতে হয়, তাহলে আমাদের জন্য খুব কষ্টকর হয়ে যায়। গরিব মানুষের জন্য এটা বড় চাপ।”

মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি এক রোগীর স্বজন রিনা অভিযোগ করে বলেন, “ডাক্তাররা প্রেসক্রিপশন দেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় জিনিস হাসপাতালে পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।”

জ্বর ও কাশি নিয়ে ভর্তি থাকা রোগী সজিব (২৭) বলেন, “কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে আছি, প্রতিদিনই কোনো না কোনো জিনিস বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসার খরচ অনেক বেড়ে গেছে।”

শুধু চিকিৎসা সরঞ্জামই নয়, মাঠপর্যায়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীরও ঘাটতি রয়েছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, চাহিদার তুলনায় এসব সামগ্রী সরবরাহ কম থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সেবাদান ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল হাসান বলেন, “টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কিছু জটিলতার কারণে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহে বিলম্ব হচ্ছে। তবে আমরা বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠতে পারবো।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করে হাসপাতালে স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম চালু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। না হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর