সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন

ধামরাইয়ে অটো রাইস মিলে দুর্ধর্ষ ডাকাতি : ট্রাকসহ ৪ আসামি গ্রেপ্তার, ৪৬২ বস্তা চাল উদ্ধার

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১১৭ সময় দেখুন

শাহরিয়ার ফেরদৌস-ধামরাই উপজেলা প্রতিনিধি (ঢাকা), ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): ঢাকার ধামরাই উপজেলায় একটি অটো রাইস মিলে সংঘটিত দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় ট্রাকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ চাল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো কয়েকজন আসামি পলাতক রয়েছে। আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ধামরাই থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম এন্ড অপস (ঢাকা জেলা উত্তর) মো. আরাফাতুল ইসলাম।

এর আগে, গত ২৬ জানুয়ারি ভোর রাতে ধামরাই পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আইঙ্গন মোড় এলাকায় মেসার্স বিসমিল্লাহ অটো রাইস মিলে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

ওই সময় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জানিয়েছিলেন, মুখে মাস্ক পরিহিত আনুমানিক ১০ থেকে ১২ জন ডাকাত লোহার দেশীয় অস্ত্র-সন্ত্র নিয়ে মিলের পশ্চিম পাশের দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা নিরাপত্তা কর্মী মো. হযরত আলী (৪৫)সহ শ্রমিকদের জোরপূর্বক হাত-পা বেঁধে পাহারায় রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করে। একপর্যায়ে ডাকাতরা মিলের মূল গেটের তালা খুলে একটি অজ্ঞাতনামা ট্রাক ভেতরে প্রবেশ করায় এবং ‘ফাতেমা জোড়া ইলিশ মার্কা’ ও ‘জোড়া আনারস মার্কা’র সর্বমোট ৬৩৩ বস্তা চাল (প্রতি বস্তা ২৫ কেজি), মোট ওজন ১৫ হাজার ৮২৫ কেজি, যার আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০ টাকা, লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া নিরাপত্তা কর্মীদের ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৭০০ টাকা লুট করা হয়। সব মিলিয়ে লুণ্ঠিত মালামালের আনুমানিক মূল্য দাঁড়ায় ৮ লাখ ৮৮ হাজার ৫৫০ টাকা।

এদিকে এ ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ধামরাই থানা পুলিশ। পরে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ধামরাই থানায় ২৮ জানুয়ারি একটি মামলা (নম্বর- ৪৮) করেন। মামলার তদন্তে নেমে ধামরাই থানার ওসি মো. নাজমুল হুদা খানের নেতৃত্বে অভিযান চালান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এস এম কাওসার সুলতান।

পুলিশ জানায়, গত ২৯ জানুয়ারি ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার তেঘরিয়া ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় নির্মাণাধীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসের পূর্ব পাশের গেটের সামনে মাটির রাস্তা থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি ছয় চাকা বিশিষ্ট ট্রাক (রেজি: ঢাকা মেট্রো-ট-১২-৭৫৯৯) উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ৫ ফেব্রুয়ারি রাত ২টা ৩০ মিনিটে ঢাকা মহানগর পুলিশের দক্ষিণখান থানাধীন আমবাগান এলাকা থেকে শাহাজল (৩০) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন ভোর ৪টা ২০ মিনিট ও ৪টা ৫০ মিনিটের মধ্যে গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ী ও বাসন থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. ফারুক মিয়া (৪১), মো. ফরহাদ মিয়া (৪৫) এবং মো. আলমগীর মিয়া (৩০)।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার শাহাজলের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন থানায় দুটি, আলমগীরের বিরুদ্ধে তিনটি ও ফারুকের বিরুদ্ধে নয়টি মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তার আসামিদের স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী অভিযানে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে লুণ্ঠিত মোট ৪৬২ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে বুধবাড়ীয়া বাজারে ফরহাদ হোসেনের ‘চৌকিদার স্টোর’ থেকে ৩০ বস্তা চাল (মূল্য ৪০ হাজার ৫০০ টাকা), উত্তর চর বিশ্বাস এলাকায় পলাতক আসামি বজলুর রহমানের টিনের ঘর থেকে ২৭২ বস্তা চাল (মূল্য ৩ লাখ ৬৭ হাজার ২০০ টাকা) এবং একই এলাকার পলাতক আসামি বশার দালালের ঘর থেকে ১৬০ বস্তা চাল (মূল্য ২ লাখ ৪৪ হাজার ৮০০ টাকা) উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত চালগুলো উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে জব্দ তালিকামূলে জব্দ করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম এন্ড অপস (ঢাকা জেলা উত্তর) মো. আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ধামরাইয়ে ডাকাতির ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমাদের টিম কাজ করতে শুরু করে। ধামরাই থেকে বের হওয়ার সমস্ত রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। প্রথমে ট্রাক জব্দ করা হয় এরপর ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে চার আসামী গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বরিশাল বিভাগের গলাচিপা এলাকা থেকে চাল উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও অবশিষ্ট লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর