মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন

ফেলানীর ছোট ভাই আরফান এখন বিজিবি সদস্য : জীবন দিয়ে সীমান্ত রক্ষার অঙ্গিকার

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৮২ সময় দেখুন

ঢাকা, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বিজিবির প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ ও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই ব্যাচেই আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়ে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত ফেলানীর ছোট ভাই মো. আরফান হোসেন (২১) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) যোগ দিয়েছেন।

 

এর আগে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৫ বিজিবি আয়োজিত সিপাহি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মো. আরফান হোসেন উত্তীর্ণ হন। এরপর লালমনিরহাটে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম আরফান হোসেনের হাতে নিয়োগপত্র হস্তান্তর করেন। এ সময় আরফান হোসেনের বাবা মো. নুরুল ইসলামও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার রামখানা–অনন্তপুর সীমান্তে ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কিশোরী ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

 

‎আরফান হোসেন ২০২২ সালে স্থানীয় নাখারগঞ্জ হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। ২০২৪ সালে স্থানীয় একটি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। গত বছর বিজিবির সার্কুলার হলে তিনি আবেদন করেন। প্রাথমিক বাছাইপ্রক্রিয়া শেষে গত চার মাস প্রশিক্ষণ নেন। কঠোর পরিশ্রমের পর আজ তাদের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হলো।

 

কুচকাওয়াজ শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি আরফান। তিনি বলেন, সীমান্তে আমার বোনকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল, আমি এখন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন সৈনিক হয়েছি। আমি চাইব না, আমার বোনের মতো আরও কারওর বাবা-মা তার সন্তান হারাক। আমি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন সদস্য হয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যেন কোনো বোন বা মা-বাবার সন্তানকে এভাবে হত্যা না করা হয়। দেশের সীমান্ত রক্ষার্থে আমার জীবন বিপন্ন হলেও চেষ্টা করব কোনো বোন বা বাবা-মায়ের সন্তান যেন আমার বোনের মতো পাখির মতো গুলি খেয়ে হত্যার শিকার না হয়।

 

তিনি আরও বলেন, ২০১১ সালে আমার বয়স তখন ৬-৭ বছর হবে। তখন আমার বড় বোন ফেলানীকে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর থেকেই আমার মা-বাবার ইচ্ছা ছিল আমি যেন এই বাহিনীতে বা দেশের জন্য কাজ করতে পারি। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমি নিজেকে গড়ে তুলি এবং বিজিবিতে আসি।

 

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে সীমান্তে কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যার সেই মর্মস্পর্শী দৃশ্য দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ফেলানীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই আরফান হোসেনের (২১) এই চাকরি যেন দীর্ঘদিনের এক চাপা বেদনার মাঝে আশার দীপ্তি এনে দিয়েছে। পরিবারসহ স্থানীয়দের বিশ্বাস, দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করে যাওয়া বোন ফেলানী খাতুনের অসমাপ্ত স্বপ্ন একদিন আরফান হোসেন পূর্ণ করবেন।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর