ক্যাম্পাস প্রতিনিধি-বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ১৬ জুলাই ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের এক নিয়মিত শিক্ষার্থীকে গভীর রাতে মেস থেকে বের করে নির্মমভাবে মারধর ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম মো: সাকিব। তিনি পূর্বে মিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন।
আজ ১৬ জুলাই, ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। আবেদনের একটি অনুলিপি প্রক্টর কার্যালয় কর্তৃক গৃহীত হয়েছে।
লিখিত আবেদনে সাকিব উল্লেখ করেন, গত ১৪ জুলাই, ২০২৬ তারিখে গভীর রাতে তাঁর ওপর এই নৃশংস হামলা চালানো হয়। ঘটনার দিন বাংলা বিভাগের মাস্টার্স ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শিবির নেতা এনামুল হক মেসের টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সাকিবের পরিচিত সৌরভ নামের একজনকে মারার উদ্দেশ্যে তেড়ে আসেন। এ সময় সাকিব পরিস্থিতি শান্ত করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ভাই, ঠান্ডা মাথায় সমাধান করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, এনামুল হক শান্ত না হয়ে উল্টো সাকিবের ওপর ক্ষিপ্ত হন। সাকিব যে একজন স্ট্রোকের রোগী এবং শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল, সেটি জানা সত্ত্বেও এনামুল তাঁকে বুকে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেন এবং শারীরিকভাবে আঘাত করেন। পরবর্তীতে এনামুল তাঁর ৩ থেকে ৪ জন রাজনৈতিক সহযোগীকে ডেকে এনে সাকিবের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালান। আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, উক্ত মেসটি শিবির দ্বারা পরিচালিত।
হামলার পর রাত আনুমানিক ২:৩০ মিনিটে বাংলা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশিক রহমান রিয়াদ ভুক্তভোগী সাকিব ও সৌরভকে মেসের কক্ষ থেকে জোরপূর্বক বের করে দেন।
ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে পেশ করা চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী, ব্রেন এন্ড মাইন্ড স্পেশালিস্ট ডা. মোহাম্মদ হাসান রোগীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন। খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ব্রাইট ডায়াগনস্টিক এন্ড কনসালটেশন সেন্টারের সেই প্রেসক্রিপশনে রোগীর মিনি স্ট্রোক, অনিদ্রা, শারীরিক কাঁপুনি এবং দুর্বলতার স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। প্রেসক্রিপশনের বিবরণীতে রোগীকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে। এই শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেই তাঁর ওপর এই হামলা চালানো হয়।
সাকিব তাঁর আবেদনে বলেন, একজন জুনিয়র শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়রদের কাছ থেকে নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করি। কিন্তু তার পরিবর্তে আমি এমন একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনার শিকার হয়েছি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমার শারীরিক অবস্থা জানার পরেও জীবননাশের উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা মানবাধিকার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশের পরিপন্থী।
তিনি প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে ভবিষ্যতে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করেছেন। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
Leave a Reply