রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ন

সাফল্যের ১৫ বছর পেরিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৪ সময় দেখুন

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি-বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। জীবনানন্দ দাশের শহর বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরে ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত ৫৩ একরজুড়ে বিস্তৃত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি দক্ষিণবঙ্গের শিক্ষার মানোন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছে। আজ সেই ববি পার করল ১৫ বছরের পথ এবং গর্বের সাথে পদার্পণ করল ১৬ বছরে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি দক্ষিণবঙ্গের শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। প্রথমদিকে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম শুরু হলেও, ধীরে ধীরে এটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে পূর্ণতা লাভ করে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়টি দক্ষিণবঙ্গের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত, বর্তমানে বাংলাদেশের ৬৪ জেলার শিক্ষার্থীরাই এখানে অধ্যয়ন করছে এবং নানা ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে।

ববি-এর শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে কৃতিত্ব অর্জন করছে। গবেষণা, প্রযুক্তি, সাহিত্য ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক যুক্ত করছে।

তবে, এই ১৬ বছরের অভিযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়টি নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে—শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও প্রশাসনিক কিছু জটিলতা এখনো বিদ্যমান। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দেশের ৩৩তম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১২ সালের ২৪ জানুয়ারি শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। প্রাথমিকভাবে ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে ৬টি বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে ২৫টি বিভাগে স্নাতক পর্যায়ে এবং সমাজকর্ম ব্যতীত ২৪টি বিভাগে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পাঠদান চলছে।

বর্তমানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে, তবে মাত্র ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছে। বাকিরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশপাশের এলাকা বা ৮ কিলোমিটার দূরে বরিশাল শহরে মেস কিংবা বাসাবাড়িতে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। দুটি ছাত্রাবাস ও দুটি ছাত্রীনিবাসে ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় চারগুণ শিক্ষার্থী অবস্থান করছে। গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বই না থাকায় শিক্ষার্থীরা অনলাইন ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এছাড়া পর্যাপ্ত শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের সেশনজটের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সকলেই একসঙ্গে কাজ করছে। ভবিষ্যতে গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি চালু এবং আরও আধুনিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিই ববি-এর মূল লক্ষ্য।

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, সারা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে আলো ছড়াচ্ছে। এই ১৬ বছরে অর্জিত সাফল্য উদযাপন করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের দিকে নজর রেখে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
“লাল দেয়ালের ববি” একদিন দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে—এই প্রত্যাশাই সবার। শুভ জন্মদিন, ববি!

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর