বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন

প্রতিরক্ষা ও জনপ্রশাসনসহ ৫ দপ্তর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের হাতে রাখলেন

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৫১ সময় দেখুন

ঢাকা, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিরক্ষা ও জনপ্রশাসনসহ ৫ দপ্তর নিজের হাতে সামলাবেন। তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সরকার পরিচালনার জন্য তিনি ৪৯ সদস্যের একটি শক্তিশালী ও কর্মঠ মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন যেখানে প্রবীণ নেতাদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণদের উদ্যমকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্র পরিচালনার অতি গুরুত্বপূর্ণ ৫টি মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রী নিজের অধীনে রেখেছেন যার মধ্যে রয়েছে প্রতিরক্ষা, জনপ্রশাসন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

‘দ্য প্রাইম মিনিস্টারস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০১৬’-এর ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী মাসে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বেতন পাবেন। পাশাপাশি তিনি মাসে ১ লাখ টাকা বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন, যদিও সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থাকে এবং তিনি সেখানে থাকেন।

প্রধানমন্ত্রীর দৈনিক ভাতা ৩ হাজার টাকা নির্ধারিত আছে। এছাড়া বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে তার জন্য ২৫ লাখ টাকার বিমা কভারেজ এবং দেড় কোটি টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিল অর্পিত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিনোদনের জন্য যে খরচ করা হয়, তা সম্পূর্ণ ভাতা হিসেবে তাকে প্রদান করা হবে। অফিস থেকে বাসায় এবং বাসা থেকে অফিসে যাতায়াতের সমস্ত খরচই সরকার বহন করবে।

প্রধানমন্ত্রী এবং তার পরিবারের নির্দিষ্ট ব্যয়ও তিনি ভাতা হিসেবে পাবেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, টেলিফোন ও অন্যান্য ইউটিলিটি খরচও সরকারই বহন করবে।

দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যেখানে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হয়েছেন জোটের শরিক নেতা জোনায়েদ সাকি।

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদকে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এবং শিক্ষা মন্ত্রী হিসেবে আ ন ম এহসানুল হক মিলন দায়িত্ব পালন করবেন; শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন ববি হাজ্জাজ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ড. খলিলুর রহমান; এ দপ্তরে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজ করবেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জহির উদ্দিন স্বপনকে, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন ইয়াসের খান চৌধুরী। বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন মোহাম্মদ শরীফুল আলম।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে থাকবেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন আমিন উর রশিদ, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

এ ছাড়া পরিবেশ মন্ত্রী হিসেবে আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সড়ক ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব পেয়েছেন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী হয়েছেন ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ধর্মমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এবং সংস্কৃতি মন্ত্রী হিসেবে নিতাই রায় চৌধুরী দায়িত্ব পালন করবেন।

ভূমি মন্ত্রণালয়ে মিজানুর রহমান মিনু, প্রবাসী কল্যাণে আরিফুল হক চৌধুরী, পানিসম্পদে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে আফরোজা খানম রিতা দায়িত্ব পেয়েছেন। গৃহায়ণ ও গণপূর্তে জাকারিয়া তাহের সুমন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দীপেন দেওয়ান এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে আসাদুল হাবিব দুলু নিয়োগ পেয়েছেন।

জনপ্রশাসন ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন যথাক্রমে আব্দুল বারী এবং সাবেক তারকা ফুটবলার আমিনুল হক। নতুন মন্ত্রিসভা দেশের অর্থনীতি, প্রশাসন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনবে—এমন প্রত্যাশা জনগণের।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর