রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ন

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১২১ সময় দেখুন

ঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের পাশাপাশি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদগুলো নিয়ে হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন-দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হতে যাচ্ছেন।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানাচ্ছে, রাষ্ট্রপতি পদে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এর পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন জোরালো হয়—রাষ্ট্রপতি পদে তাকে মনোনয়নের বিষয়ে খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ ও পরিচ্ছন্ন নেতৃত্বের জন্য পরিচিত মির্জা ফখরুল বর্তমানে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং দলের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার গ্রহণযোগ্যতা ও আপসহীন ভাবমূর্তি রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদের জন্য তাকে একজন শক্ত প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। একই দিন বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিই মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করান—এ কারণে রাষ্ট্রপতি নিয়োগের বিষয়টি এখন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘদিনের আন্দোলন, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সৎ নেতৃত্ব দেশের রাষ্ট্রীয় ভারসাম্য ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলায় জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকার ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে তিনি ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে উপ-প্রধানমন্ত্রী এস. এ. বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮২ সালে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষকতা পেশায় ফিরে যান এবং ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই নেতা ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। পরবর্তী সময়ে সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। ২০১৬ সালে বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি দলটির ইতিহাসে দীর্ঘমেয়াদি মহাসচিবদের একজন হিসেবে পরিচিতি পান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে বিবাহিত। দম্পতির দুই মেয়ে রয়েছে- মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ। বড় মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত। ছোট মেয়ে ঢাকার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। তার পরিবার এবং রাজনৈতিক পরিবেশ তাকে দৃঢ় ও ন্যায়পরায়ণ নেতা হিসেবে গড়ে তুলেছে।

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, স্বাধীন নির্বাচন ও জনগণের মৌলিক অধিকারের দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতা রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেলে তা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর