বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন

জামায়াতের আমির তার ভেরিফাইড এক্স অ্যাকাউন্টে নারীদের উদ্দেশ্যে নোংরা জঘন্য ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেছেন : মাহাদী আমিন

রিপোর্টার নাম
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৪৯ সময় দেখুন
ঢাকা, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): আজ রবিবার রাজধানীর গুলশানে ৯০ নং রোডের বিএনপি নির্বাচনী অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও দলের মুখপাত্র মাহাদী আমিন বলেছেন, জামায়াত আমির ডা. শফিক রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক দাবি কতটুকু যৌক্তিক?

মাহাদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফাইড এক্স অ্যাকাউন্টে নারীদের উদ্দেশ্যে যে নোংরা জঘন্য ও অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেছেন বলে দেশব্যাপী আলোচনা চলছে সেটি সঠিক হলে এর মাধ্যমে পুরো সমাজ ব্যবস্থাকে মধ্যযুগীয় অন্ধকারে ঠেলে দেয়ার প্রচেষ্টা হলো প্রতিয়মান।

তিনি তার পোস্টে গতকাল তথা ৩১ শে জানুয়ারি বিকেল ৪.৩৭ মিনিটে যা লিখেছেন তা যদি সত্যি হয় এবং একটি রাজনৈতিক দলের বিশ্বাস হয়ে থাকে তবে এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।

এর আগেও আলজাজিরার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নারীদের ক্ষমতা প্রসঙ্গে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন জানিয়ে বিএনপির মুখপত্র বলেন, আগেও কিন্তু আমরা দেখেছি এই দলের একজন নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বোনদের উদ্দেশ্যে ঠিক একইভাবে শব্দ ব্যবহার করেছেন। আমরা দেখেছি এই দলের প্রধান স্বয়ং প্রকাশ্যে নারীদের জন্য কর্মঘন্টা কমিয়ে আনার মতন পশ্চাৎপ বক্তব্য দিয়েছেন। যে দলটি মুখে মুখে ইনসাফ কায়েমের কথা বলে বেড়ায়। কিন্তু একটি আসনেও তারা সংসদ সদস্য হিসেবে কোন নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী অথচ একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীও নেই। এই বিষয়টি নিশ্চয়ই নারীদের প্রতি উনাদের হীন মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।

তিনি বলেন, জামায়াত নেতারা স্পষ্টভাবে তারা উল্লেখ করেছেন বিকেল ৪.৫৫ মিনিটে একাউন্ট এক হওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে এই দীর্ঘ সময় তারা কেন জাতির সামনে সেটি উন্মোচন করেননি এবং প্রায় ১২ ঘন্টা পরে কেন জিডি করতে হলো যখন সারা দেশে মানুষ সংক্ষুব্ধ হয়েছেন। এই বিলম্বের আগেও কি কোন যৌক্তিক ব্যাখ্যা রয়েছে? তাছাড়া ঘোষণা দেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সে এখন ফিরে পাওয়ার দাবিটাই বা কতটা বিশ্বাসযোগ্য? এই প্রশ্নগুলো জনমনে ঘুরছে। মানুষ প্রশ্নগুলোর উত্তর যৌক্তিকভাবে জানতে চান। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই আমরা সর্বদা নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সম্মান ও সম অধিকারের পক্ষে। এই ধরনের ভাষা ও মানসিকতা কোন সভ্য সমাজে কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য করতে পারে না। এটি নারী বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ। জামায়েত আমিরের এই ফেসবুক পোস্ট যদি এটি সত্যি হয়ে থাকে আমরা এর তীব্র নিন্দা এবং ধিক্কার জানাই।

মাহাদী আমিন আরো বলেন, এর আগেও জমায়েতের নেতারা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন তাদের দলের প্রধান পদে নারী কখনোই আসতে পারবেন না। অথচ তাদের নারীরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে নির্বাচনী আচরণ নীতির লঙ্ঘন ঘটিয়ে এনআইডি কার্ড এবং বিকাশের নম্বর সংগ্রহ করেছেন। এটা কি ধরনের ইনসাফ? আমরা আরো দেখেছি এই দলের সঙ্গে নির্বাচনী জোটে যুক্ত থাকার কারণে জোটভুক্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বহু নারী নেত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে। কারণ তারা অবমাননার শিকার হয়েছেন। অনেকেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। যারা জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করছেন তারাও অনেকেই স্বীকার করেছেন যে দলটির কারণে তারা নানাভাবে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।

এমনকি নারী প্রার্থীদের পোশাক পরিচ্ছেদ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। যা চরম রুচিহীনতা ও নারী বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ।

আমরা প্রত্যক্ষ করেছি যে আমাদের যারা নারী প্রার্থী রয়েছেন, নির্বাচনী প্রচারণে আমাদের যেসব মা এবং বোনেরা রয়েছেন তাদেরকেও অনলাইন এবং অফলাইনে সমানভাবে নানাভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর