নারায়ণগঞ্জ, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ইং (ঢাকা টিভি রিপোর্ট): শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলী ফেরিঘাটে ধলেশ্বরী নদীতে ফেরি থেকে একসঙ্গে পাঁচটি যানবাহন নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর নিখোঁজদের উদ্ধারে দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালায় ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশের উদ্ধারকারী দল। পুলিশের তথ্যমতে, দুর্ঘটনার পর একজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পথেই তার মৃত্যু হয়। বাকি দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় নিখোঁজের প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পর।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান জানান, নিহতরা হলেন সিঙ্গাপুরপ্রবাসী মাসুদ রানা (৩০), মোটরসাইকেল আরোহী মো. রফিক (৩৫) এবং ভ্যানচালক স্বাধীন (২৫)। মাসুদ রানা নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলী ইউনিয়নের গোপালনগরের আতাউর সরদারের ছেলে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাসুদ রানা প্রায় এক মাস আগে সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরেন। পুনরায় বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। প্রশিক্ষণ শেষে বাড়ি ফেরার পথেই তিনি দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর আহত অবস্থায় রফিককে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাইনবোর্ড এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে ডুবুরি দল মাসুদ রানা ও ভ্যানচালক স্বাধীনের মরদেহ উদ্ধার করে। উদ্ধারকালে দেখা যায়, মাসুদের মরদেহ ফেরির প্রপেলারের সঙ্গে আটকে গিয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসিনুজ্জামান আরও জানান, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে ফেরিতে থাকা ট্রাকচালকের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ঘটনার পরপরই ওই ট্রাকচালক পালিয়ে যায়। তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে বক্তাবলী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. রকিবুজ্জামান জানান, ফেরিটি যানবাহন ও যাত্রী নিয়ে বক্তাবলীর পূর্ব ঘাট থেকে পশ্চিম ঘাটের উদ্দেশে যাত্রা করছিল। নদীর মাঝপথে হঠাৎ করে ফেরিতে থাকা একটি ট্রাক চালু হয়ে যায়। এতে সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেল, দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও একটি ভ্যানসহ মোট পাঁচটি যানবাহন নদীতে পড়ে যায়।
তিনি আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে ট্রাকটি ফেরিতে ওঠানোর সময় গিয়ারে রাখা ছিল। হঠাৎ সেটি সামনে এগিয়ে গেলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এর ফলেই একের পর এক যানবাহন নদীতে পড়ে ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে।
ঘটনার পর ফেরিঘাট এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা ফেরিঘাটে যানবাহন ওঠানামার সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply